এই সময়, দুর্গাপুর: জল্পনার অবসান! অবশেষে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের (ডিএসপি) সঙ্গে অ্যালয় স্টিল প্লান্টের সংযুক্তিকরণ হচ্ছে। সোমবার দু’দিনের সফরে দুর্গাপুরে এসে এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী। একইসঙ্গে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের আধুনিকীকরণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এ দিন দুপুরে ডিএসপি গেস্ট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের সঙ্গে অ্যালয় স্টিল প্লান্টের সংযুক্তিকরণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর জন্য ১,৮০০ কোটি টাকা খরচ হবে। দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের আধুনিকীকরণের কাজও দ্রুত করতে চাইছি। এর জন্য কত খরচ হবে তা নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা চাই কারখানার আধুনিকীকরণের পরে তার শিলান্যাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত দিয়ে হোক।’
প্রায় আড়াই দশক ধরে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের সঙ্গে অ্যালয় স্টিল প্লান্টের সংযুক্তিকরণের চর্চা চলছে। কয়েক বছর আগে অ্যালয় স্টিল কারখানা বিক্রির জন্য দরপত্র ডেকেছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এমনকী কারখানা বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। টানা ৯৪ দিন কারখানার গেটের সামনে মঞ্চ করে অবস্থান–বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল।
এ দিন দু’টি কারখানা সংযুক্ত হওয়ার খবরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশী অ্যালয় স্টিল প্লান্টের কর্মীরা। তাঁদের কথায়, ‘কারখানা বন্ধ করে দেওয়া বা বিক্রি করে দেওয়ার আর কোনও আশঙ্কা থাকল না। হয়তো আগামী দিনে অ্যালয় স্টিল প্লান্টের নামটা থাকবে না। কিন্তু কর্মীদের কাজ থাকবে।’
বর্তমানে প্রায় ৪৫০ জন স্থায়ী কর্মী রয়েছেন অ্যালয় স্টিল প্লান্টে। অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। স্টেনলেস স্টিলের চাদর উৎপাদনে দক্ষ কারখানাটি। ভারতের সামরিক ক্ষেত্রেও এদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সাবমেরিন ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে এই সংস্থার তৈরি ইস্পাতের চাদর ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৪-এ বিজেপি কেন্দ্রে তৃতীয় বার সরকার গঠন করার পরে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের আধুনিকীকরণের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়। গত এক বছর ধরে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের জমি পাঁচিল দিয়ে ঘেরার কাজ শুরু করেছেন। এ দিন ইস্পাত মন্ত্রী জানিয়েছেন, সংস্থার নিজস্ব যে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, সেখানেই আধুনিকীকরণ বা সম্প্রসারণের কাজ করা হবে।