• ৩৪ বার বল স্পর্শ, গোলে একটিও শট নয়, এমবাপের ভয়াবহ পরিসংখ্যানে ভাঙল ফ্রান্সের স্বপ্ন
    এই সময় | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • কিলিয়ান এমবাপের (Kylian Mbappe) বিশ্বকাপ স্বপ্নে আবারও নেমে এল হতাশার কালো ছায়া। চার বছর আগে ফাইনালে সবটুকু উজাড় করে দিয়েও ট্রফি ছুঁতে পারেননি। এ বার তো ফাইনালের দরজাতেই পৌঁছতে পারলেন না। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল ম্যাচে স্পেনের (Spain) কাছে ২-০ গোলে হারল ফ্রান্স (France), আর শেষ হয়ে গেল এমবাপের আরও একটি বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।

    যে ফুটবলারকে ঘিরে ছিল কোটি কোটি সমর্থকের আশা, সেই এমবাপেই যেন হারিয়ে গেলেন সবচেয়ে বড় মঞ্চে। টুর্নামেন্ট জুড়ে ঝড় তোলা ফরাসিরা সেমিফাইনালে সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ, আর শেষ বাঁশি বাজতেই এমবাপের চোখের সামনে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল বিশ্বকাপ জয়ের আরও একটি স্বপ্ন।

    স্পেনের দেওয়ালে ধাক্কা খেল ফরাসি আক্রমণ

    ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের রক্ষণভাগ যেন এমবাপেদের জন্য এক অদৃশ্য কারাগার তৈরি করে রেখেছিল। টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ তছনছ করে দেওয়া কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe), ওউসমান দেম্বেলে (Ousmane Dembele), মাইকেল ওলিসে (Michael Olise) এবং ব্র্যাডলি বারকোলা (Bradley Barcola)— কেউই খুঁজে পাননি নিজেদের পরিচিত ছন্দ। স্পেনের ডিফেন্ডাররা এমন ভাবে ফরাসি আক্রমণভাগকে আটকে রাখেন যে, পুরো ম্যাচে ফ্রান্সকে আর আগের সেই ভয়ঙ্কর দল বলেই মনে হয়নি।

    সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন এমবাপে। বিশ্বকাপে আট গোল করে সেমিফাইনালে খেলতে নামা এই তারকা প্রথমার্ধে মাত্র ১৪ বার বল স্পর্শ করেন, যা মাঠে থাকা সব খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম। স্পেনের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট— এমবাপেকে যতটা সম্ভব বল থেকে দূরে রাখা, আর সেই পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়ন করে তারা। পুরো ম্যাচে মাত্র তিনটি শট নিতে পারেন ফ্রান্স অধিনায়ক, কিন্তু একবারও উনাই সিমনের (Unai Simon) গোলকে সত্যিকারের বিপদে ফেলতে পারেননি।

    যে ফুটবলারকে থামানো নিয়ে প্রতিপক্ষ কোচদের আলাদা পরিকল্পনা করতে হয়, সেই এমবাপে সেমিফাইনালের রাতে যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণভাগের সামনে বারবার থেমে গিয়েছে তাঁর গতি, থেমে গিয়েছে ফ্রান্সের আক্রমণ, আর তার সঙ্গেই থেমে গিয়েছে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও।

    এমবাপের সঙ্গীদেরও নীরবতা
    ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে ফ্রান্সের অসহায়তা। ম্যাচ শেষে এমবাপের বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৪, যা তাঁর মতো একজন আক্রমণভাগের মূল খেলোয়াড়ের জন্য বেশ কম। ছ’বার ড্রিবলের চেষ্টা করলেও সফল হয়েছেন মাত্র একবার। পাশাপাশি ১৪ বার বলের দখল হারিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। তবে পরিসংখ্যানের এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্রান্সের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি লড়াই তিনিই করেছেন।

    আসলে সমস্যাটা ছিল ফ্রান্সের সামগ্রিক আক্রমণাত্মক কাঠামোয়। ওউসমান দেম্বেলে (Ousmane Dembele), মাইকেল ওলিসে (Michael Olise) এবং ব্র্যাডলি বারকোলাদের (Bradley Barcola) কার্যত খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ফলে এমবাপে পর্যাপ্ত সাহায্য পাননি। স্পেনের ডিফেন্সিভ ব্লক খুবই ছোট ও সংগঠিত ছিল, যার ফলে ফ্রান্স উইং কিংবা মাঝমাঠ— কোনও জায়গাতেই পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করতে পারেনি।

    ফলে এমবাপেকে প্রায়ই বল পেতে পরিশ্রম করতে হয়েছে। গোল থেকে অনেক দূরে গিয়ে বলের জন্য লড়াই করতে হয়েছে। আর বক্সের আশেপাশে তিনি বলের সাপ্লাই না পাওয়ায় তিনি নিজের গতি কাজে লাগিয়ে ডিফেন্ডারদের বিপদে ফেলার সুযোগ খুব কমই পেয়েছেন। ফলে ফ্রান্সের অধিকাংশ আক্রমণই স্পেনের রক্ষণভাগে আটকে যায়। আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় স্প্যানিশদের হাতে।

    সংখ্যাই বলছে ফ্রান্স কতটা অসহায় ছিল

    সেমিফাইনালের আগে ১৬ গোল করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা দল ছিল ফ্রান্স। তাদের চেয়ে মাত্র এক গোল বেশি ছিল আর্জেন্তিনার (Argentina)। কিন্তু সেই দলই স্পেনের বিরুদ্ধে গোলের সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খেয়েছে।

    ফ্রান্সের প্রত্যাশিত গোলের পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৩, যার বেশির ভাগই এসেছে এমবাপের প্রচেষ্টা থেকে। ম্যাচের শেষদিকে হতাশা এতটাই বেড়ে যায় যে ৮৬ মিনিটে উনাই সিমনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে হলুদ কার্ডও দেখতে হয় তাঁকে।

    মরক্কোর (Morocco) বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করে দলকে জেতানো এমবাপে সেমিফাইনালেও ভরসার নাম ছিলেন। কিন্তু এ বার তিনি একা। আর একা এমবাপে স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারলেন না। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেল ফ্রান্সের স্বপ্ন, আর বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একবার অপূর্ণ রয়ে গেল এমবাপের অপেক্ষা।
  • Link to this news (এই সময়)