অ্যাসিড হামলায় শুধু শরীরের বাইরের অংশেই বিকৃতি ঘটে না। অনেক সময়ে জোর করে অ্যাসিড খাইয়ে দেওয়ার ফলে শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরও ক্ষতি হয়। তাঁরাও প্রতিবন্ধকদের অধিকার আইনের আওতায় এ বার থেকে সরকারি সুযোগসুবিধা পাবেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এ কথা জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকার জানিয়েছে, এ ব্যাপারে নিয়মকানুনে সংশোধনও করা হয়েছে সম্প্রতি।
শাহিন মালিক নামে অ্যাসিড আক্রান্ত এক সমাজকর্মী সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, জোর করে অ্যাসিড খাইয়ে দেওয়ার ফলে আক্রান্তের ফুসফুস, খাদ্যনালী বা পাকস্থলীর মতো অংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার জেরে সারা জীবন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁদের। এত দিন (মামলার দায়েরের সময় পর্যন্ত) যে আইন বলবৎ রয়েছে, তাতে অ্যাসিড হামলার ক্ষেত্রে শরীরের বাইরের অংশের বিকৃতিকেই ‘প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু যাঁদের শরীরের ভিতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁরা সমস্ত সরকারি সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত।
মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। সেখানে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, গত ২২ মে কেন্দ্র একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে যাঁরাই অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের সকলকেই প্রতিবন্ধকদের অধিকার আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আদালত কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। জানিয়েছে, যে হেতু কেন্দ্রের সংশোধনী আদতে পুরোনো আইনেরই সহজ ব্যাখ্যা, তাই ধরে নেওয়া হবে, ২০১৬ সালের ওই আইন তৈরির সময় থেকেই এই সুবিধা চালু ছিল।
অ্যাসিড হামলার ঘটনা সংক্রান্ত আরও একাধিক বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শাহিনের আইনজীবী। সেই মতো অ্যাসিড আক্রান্তেরা যাতে দ্রুত বিচার পান, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়েও আদালতে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ এবং বাজারে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে অ্যাসিড বিক্রি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আদালত জানিয়েছে, পরের শুনানিতে এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থ আক্রান্তদের চিকিৎসার কাজে লাগানো যায় কি না, কিংবা অ্যাসিড বিক্রেতাদের এই ধরনের অপরাধের জন্য দায়ী করা যায় কি না— তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছে আদালত।