• ডেডলাইনের চরম চাপ, একমাসের কাজ শেষ করতে হাতে সময় মাত্র ৭২ ঘণ্টা! তারপর...
    News18 বাংলা | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩০ দিনের কাজ মাত্র ৩ দিনে, কাঠে প্রাণ ফুটিয়ে তুলছেন পিতা-পুত্র।  রথযাত্রাকে সামনে রেখে বসিরহাট শহরের সাঁইপালা এলাকার শিল্পী তরুণ চন্দ্র ও তাঁর বাবা, প্রখ্যাত উড কার্ভিং শিল্পী সুবোল চন্দ্র, দিন-রাত এক করে তৈরি করছেন ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র (বলরাম) ও সুভদ্রার কাঠের বিগ্রহ।

    বসিরহাটের মেরুদণ্ডী এলাকার প্রায় ৮০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটির শেষ মুহূর্তের বায়নায় হাতে মাত্র চার দিন সময় পেলেও, সাধারণত এক মাসের কাজ তাঁরা শেষ করছেন টানা তিন দিন-তিন রাতের পরিশ্রমে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জগন্নাথদেবের বিগ্রহ নির্মাণে নিম কাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই কারণেই নিম কাঠ ব্যবহার করে সূক্ষ্ম কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে তিন দেবতার বিগ্রহ।

    বহু বছর ধরে উড কার্ভিং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত তরুণ চন্দ্র তাঁর শিল্পকর্মের জন্য একাধিক সম্মানও পেয়েছেন। কাজের ফাঁকেই তরুণ চন্দ্র বলেন, “এটা শুধু কাজ নয়, আমাদের কাছে ভক্তি আর শিল্প, দুটোই। সময় কম হলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বাবা-ছেলে মিলে নিরলস পরিশ্রম করছি।” প্রবীণ শিল্পী সুবোল চন্দ্রের কথায়, “আগে এই শিল্পের কদর অনেক বেশি ছিল। এখন পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক না পাওয়ায় অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

    তবুও আমরা চাই নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসুক, তাহলেই উড কার্ভিং শিল্প আবার তার হারানো সম্মান ফিরে পাবে।” বর্তমানে বাজারের সংকোচন ও শিল্পীদের অনাগ্রহের কারণে প্রাচীন উড কার্ভিং শিল্প অস্তিত্বের সংকটে। সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও বসিরহাটের এই পিতা-পুত্রের নিষ্ঠা ও শিল্পসাধনা শুধু রথের বিগ্রহ নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এক প্রাচীন শিল্প ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখার এক নীরব লড়াই।
  • Link to this news (News18 বাংলা)