: বর্ষা এলেই মালদহের নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যায়। প্রতিবছরের মতো এবারও গঙ্গা ও ফুলহার নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মানিকচক ব্লকের বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে মথুরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শঙ্করটোলা ঘাট, ভুতনি ও গোপালপুর এলাকায় নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আমানত জানান, “গত বছর ভয়াবহ ভাঙনে বাড়ির সামনের অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। অস্থায়ীভাবে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা হলেও তা কার্যকর হয়নি। এবার ফের নদীর ধারে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”
নদী তীরবর্তী আর এক বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “চলতি বছরও নদীতে জল বাড়তে শুরু করেছে। ফাটল ধরেছে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় প্রতিরোধমূলক কাজ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা শুরু হয়নি। নতুন সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী ভাঙনরোধী প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক গৌড় চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “রাজ্য সরকারের বাজেটে নদীভাঙন রোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গঙ্গা ও ফুলহার নদীতে ১৬৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী বছর থেকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা, যার ব্যয়ভার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করবে।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ কারিগরি সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী নদীর সক্রিয় তীর সংরক্ষণ, স্পার নির্মাণ এবং গঙ্গা–ফুলহারের মিলনস্থলে কাঠামোগত শক্তিশালীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রকল্প কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মানিকচকের নদী তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ।