: প্রায় ২০০ বছর আগের কথা, দেশে তখন ইংরেজ শাসন। মথুরাপুরের বটীশ্বর গ্রামের জনৈক এক ব্যক্তি সাধন বৈরাগী গ্রামে রথ তৈরি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাধ সাধে ইংরেজ পুলিশ। পরে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় রথ। এবছর আবারও ২০০ বছর পর নতুন রথ তৈরি করে গ্রামের ঐতিহ্য ফেরাতে চায় স্থানীয়রা। নতুন রথ তৈরিতে হাত লাগিয়েছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের আট থেকে আশি যে যেমন পারেন এই রথ তৈরিতে কাজ করছেন। দিনরাত চলছে কাজ। ২০০ বছর আগে রথ চলার পর গ্রামের ওই এলাকার নাম হয়ে যায় রথতলা। কিন্তু শুধু নাম ছিল রথ দেখতে পায়নি গ্রামের বেশ কয়েকটি প্রজন্ম। তবে এবছর থেকে নতুন রথ দেখতে পাবে তারা।
১৫ ফুট উচ্চতার রথে বসানো হয়েছে সেই পুরনো রথের চাকা। নিমকাঠ দিয়ে তৈরি রথে রঙ করা থেকে ডিজাইন মিস্ত্রীর সঙ্গে সমান তালে সহযোগিতা করছেন গ্রামবাসীরা। এই রথ নিয়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে এলাকায়। এই রথের ইতিহাস নিয়ে বলতে গিয়ে সাধন বৈরাগীর নাতি রুদ্রনীল বৈরাগী জানান, দাদু জায়গা জমি বেচে রথ তৈরি করতে গিয়ে সন্দেহের চোখে পড়েছিলেন ইংরেজদের। দেশে তখন স্বদেশী আন্দোলনের জোয়ার। সেই সময়ে রথের জন্য লোহার চাকা তৈরি করতে কলকাতা যান তিনি। হঠাৎ একজন গ্রামের লোক এত টাকা নিয়ে কলকাতায় কেন সেই সন্দেহে আটক করে ইংরেজ পুলিশ। কিন্তু সাধন বাবুও নাছোড়বান্দা তিনি রথ করবেন। এরপর ইংরেজদের পুলিশ তাকে নিয়ে আসে গ্রামে। গ্রামে এসে আসল ঘটনা জেনে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
তারপর রথ তৈরি করে গ্রামে রথযাত্রা শুরু করেন মথুরাপুরের বটীশ্বরে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই রথ নষ্ট হয়ে যায়। থেকে যায় সেই রথের চাকা। ক্রমে রথবিহীন রথতলার নাম থেকে যায়। প্রায় ২০০ বছর পর ফের গ্রামের মানুষজন সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন করে রথ তৈরি করছেন। গ্রামবাসীরা কাজে হাত লাগিয়েছেন। এবছর আবার শুরু হবে সেই রথ। এ নিয়ে স্থানীয় যুবক সৌরভ পাঠক জানান, রথতলা নাম শুনেছে তারা। কিন্তু রথ দেখেনি গ্রামে। এবছর গ্রামে রথের চাকা গড়াবে ফলে খুশি তাঁরা।