ফের বহুতলে বিধ্বংসী আগুন। বুধবার দুপুরে উত্তরপ্রদেশের নয়ডার মামুরায় একটি পাঁচতলা বিল্ডিংয়ে আগুন লেগে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। ভিতরে আটকে পড়েন প্রায় ৫০টি পরিবারের ১০০-এর বেশি মানুষ। আগুনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে কমপক্ষে মৃত্যু হয়েছে দু'জন বাসিন্দার। তবে দমকল ও উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় বহুতল ভবনটিতে আটকে থাকা প্রায় ৫০টি পরিবারকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে নয়ডার ফেজ-৩ থানার অন্তর্গত সেক্টর ৬৬-এর মামুরা গ্রামে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে একটি গ্রাউন্ড ফ্লোরের পার্কিং জোনে একটি ইলেকট্রিক স্কুটার চার্জ দেওয়া হচ্ছিল। চার্জ দেওয়ার সময়ে স্ফুলিঙ্গ বা স্পার্কিং থেকে সম্ভবত আগুন লেগে যায়। এর পরে সেই আগুন ওই দু-চাকার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলিতে ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ রূপ নেয়। একাধিক গাড়ি দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলতে থাকায় দ্রুত পুরো পার্কিং এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
খবর পেয়ে দমকলের সাতটি ইঞ্জিন, হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকলকর্মীরা সিঁড়ির সাহায্যে অগ্নিকাণ্ডের জেরে ভিতরে আটকে পড়া একের পর এক বাসিন্দাকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসেন। অনেকে আগুন থেকে বাঁচতে ছাদে উঠে যান। সেখান থেকে তাঁদের পাশের বাড়ির ছাদের সঙ্গে ল্যাডার লাগিয়ে উদ্ধার করা হয়। ওই ব্লিডিংটিতে প্রায় ৫০টি পরিবার বসবাস করত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গৌতম বুদ্ধ নগরের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার রাজীব নারায়ণ জানান, আগুনের চেয়ে ধোঁয়াই বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গ্রাউন্ড ফ্লোরের পার্কিং থেকে ধোঁয়া দ্রুত উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ায় বাসিন্দারা আটকে পড়েন। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া দু’জনকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরে বিল্ডিংয়ের মালিককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ফেজ-৩ থানায় প্রাসঙ্গিক ধারায় FIR দায়ের করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ই-স্কুটার বা অন্য কোনও বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ করার সময় সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।