মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সমস্ত পদ ছাড়লেন মদন মিত্র। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসেই কালীঘাট তৃণমূলের দেওয়া সমস্ত পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন মদন। শিবির বদলে মদন মিত্র বলেন, ‘তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু ও ঘর থেকে এ ঘরে এলাম। ও ঘরে সুখের পালঙ্ক ছিল, এ ঘরে খাটিয়া আছে।’ মদন মিত্রের সঙ্গত্যাগ নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বড় ধাক্কা। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে মমতার সঙ্গী মদন। এর আগে ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো মমতার ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকা নেতৃত্ব শিবির বদলেছেন। সঙ্গ ছেড়েছেন প্রিয় ‘কেষ্ট’ অনুব্রত মণ্ডলও। এ বার সরে দাঁড়ালেন মদন মিত্র।
সম্প্রতি কালীঘাট তৃণমূলের তরফে মদন মিত্রকে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক, হকার ইউনিয়নের সভাপতি, দমদম-ব্যারাকপুর জেলা সভাপতি করা হয়। এ দিন তিনটি পদই ছাড়েন তিনি।
এ দিন দুপুর দেড়টা নাগাদ ভবানীপুরের বাড়ি থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে বিধানসভায় পৌঁছন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। এসেই ঢুকে যান সেই ঘরে, যেখানে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা, আখরুজ্জমানরা বসেছিলেন। গিয়ে বসেন ঋতব্রতর পাশে। আর সেখানে বসেই মদনের ঘোষণা, মমতার দেওয়া সব পদ ছাড়লেন।
সূত্রের খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রর দুই ছেলে ও স্ত্রীকে তলব করেছে ইডি। আগামী সপ্তাহে তাঁদের তলব করা হয়েছে। কিছু আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মদনের স্ত্রী এবং পুত্রদের নাম উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর। সে কারণেই তাঁদের ডাকা হয়েছে।
মঙ্গলবার এই খবর নিয়ে যখন জোর চর্চা, চমকে দিয়ে রাতেই স্বর্ণকমল সাহার তালতলার বাড়িতে পৌঁঁছে যান মদন মিত্র। স্বর্ণকমল সাহা সন্দীপন সাহার বাবা। এর পরেই মদন মিত্রের শিবির বদল নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। তবে রাতারাতি যে সে জল্পনার অবসান হবে, তা আন্দাজ করতে পারেননি কেউই।
এ দিন দল ছেড়েই মদন মিত্র বলেন, ‘দল চালায় সেনাপতি। সেনাপতি যদি দলকে ঠিকমতো চালাতে না পারে। আজ গোটা দল ভয়ে কাঁপছে। কেন? চলুন তো আমার সঙ্গে হেঁটে ধর্মতলা দিয়ে, দেখি কে ডিম মারে? সরি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি দলের মধ্যে চেষ্টা করেছিলাম। এর বেশি বলব না। তবে আমি চেয়েছিলাম আমাদের দল একসঙ্গে যাতে কাজ করতে পারে। কোনও কথা মানা হয়নি।’
বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা শুরুর দিন থেকেই বলেছি, এ লড়াই আধিপত্যবাদ কায়েম করার চেষ্টার বিরুদ্ধে কালেক্টিভের লড়াই। আমরা একটা কালেক্টিভ, সেটাই আমাদের পরিচয়। মদন মিত্রের মতো বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, দীর্ঘদিনের বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী এই কালেক্টিভে যুক্ত হওয়ায় আমাদের কালেক্টিভ আরও শক্তিশালী হলো।’