• ৬০ বছর পরে আবার মিলল মুকুট ফড়িং, ‘চন্দন দস্যু’র ইতিহাস শোনালেন ঝাড়গ্রামের অধ্যাপক
    এই সময় | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • সুমন ঘোষ

    দীর্ঘ ৬০ বছর পর আবার দেখা মিলল ‘হুডেড গ্রাসহপার’ বা মুকুট ফড়িংয়ের। এ বার এই পতঙ্গের দেখা মিলল ঝাড়গ্রাম জেলার লোধাশুলির জঙ্গলে। বিভিন্ন নথি ঘেঁটে গবেষকরদের দাবি, এই পতঙ্গটি কেবলমাত্র ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায়।

    ১৯৬৫ সালে ‘বম্বে ন্যাচরাল হিস্ট্রি সোসাইটি’র জার্নালে উল্লেখ রয়েছে, ওই সময়ে মুকুট ফড়িংয়ের দেখা মিলেছিল বিহারের হাজারিবাগে। এই পতঙ্গের কথা সকলের নজরে এনেছিলেন ফাদার রিচার্ড। তখনই জ়ুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া তথ্যতালাশ করে জানায়, বিহারের হাজারিবাগের পাশাপাশি সিংভূম, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং এবং মেদিনীপুর, ওডিশার গঞ্জাম, মধ্যপ্রদেশের মান্ডলা এবং কর্নাটকের বেঙ্গালুরু, মহীশূরে পাওয়া যায়। ওই সময়ে ঝাড়গ্রাম অবিভক্ত মেদিনীপুরের অন্তর্গত ছিল। তবে মেদিনীপুরের কোন জায়গায় পাওয়া গিয়েছিল মুকুট ফড়িং, তা নির্দিষ্ট করে কোনও উল্লেখ নেই।

    সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের মোহনপুর গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন লোধাশুলির জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক পবিত্র মাহাতোর নজরে পড়ে মুকুট ফড়িং। তিনি সেটি ক্যামেরাবন্দি করেন। পরে বিষয়টি জানান, তাঁর শিক্ষক তথা কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহারকে। সুমনই খোঁজ নিতে গিয়ে বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির জার্নাল ঘেঁটে উদ্ধার করেন পুরোনো ইতিহাস। পবিত্র বলেন, ‘আমি গবেষণার কারণে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গলে-জলাশয়ে ঘুরে বেড়াই। অনেক ধরনের পাখি, পতঙ্গ দেখেছি। কিন্তু এই ধরনের পতঙ্গ প্রথম নজরে এল।’

    সুমনও জানান, এই মুকুট ফড়িং সাধারণত বিভিন্ন গাছের পাতা খায়। তাদের বেশি পছন্দ সেগুন গাছের কচি পাতা। দক্ষিণ ভারতের চন্দন গাছের পাতা খেয়েও এই পতঙ্গ গাছ নষ্ট করে। তাই এগুলিকে অনেকে ‘চন্দন দস্যু’ও বলে থাকেন। অধ্যাপক বলেন, ‘এই হুডেড গ্রাসহপারের বৈজ্ঞানিক নাম টেরাটোডস মন্টিকলিস। এগুলি দেখতে একেবারে পাতার মতো। ফলে গাছে বসে থাকলেও, হঠাৎ চেনা বা বোঝা মুশকিল।’

  • Link to this news (এই সময়)