বিউ সরকার: ২০১৩ সালের সেই নৃশংস স্মৃতি আজও টাটকা। কামদুনি গণধর্ষণ ও খুন মামলার পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৩ বছর। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, আজও অধরা ‘প্রকৃত’ ন্যায়বিচার।
এই পরিস্থিতিতে সুবিচারের আশায় এবার সরব হলেন নির্যাতিতার পরিজনেরা। বুধবার বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হন তাঁরা। পরিবারের স্পষ্ট দাবি, মামলাটি নতুন করে খুলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার চড়াই-উতরাই পার করলেও মামলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় দিক আজও অমীমাংসিতই রয়ে গিয়েছে। ঘটনার গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে তাঁরা জানান, এই মামলায় নিম্ন আদালত প্রথমে ৬ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। তাদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সেই রায় বদলে দেয়। মূল অভিযুক্ত আনসার আলির ফাঁসির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি তিন আসামিকে পুরোপুরি বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়।
নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, "বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা আসল বিচার পেলাম না। সত্যিটা আড়াল করতেই কি মামলাটি ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে? আমরা চাই এই ঘটনার নতুন করে তদন্ত হোক এবং দোষীরা শাস্তি পাক।"
উচ্চ আদালতের এই রায়ের পর থেকেই নতুন করে ক্ষোভে ফুঁসছে কামদুনি। ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্পূর্ণ সত্যকে সামনে আনতেই এই মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন নির্যাতিতার পরিজনেরা।