• হাওড়ায় এ কী কাণ্ড! ব্যাঙ্ক থেকে কোটি টাকার জালিয়াতি
    আজকাল | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্যাঙ্ক জালিয়াতির একটি বড় মামলায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জাল নথি জমা দিয়ে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে ৩.৯০ কোটি টাকার ক্যাশ ক্রেডিট ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১.৫৫ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের আগে মানস রায়, তাপস রায়, তন্ময় রায়, স্নিগ্ধা রায় এবং প্রশান্ত চৌধুরী, যারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও গ্যারান্টর ছিলেন, তারা পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার ছক কষেন। অভিযোগ, তারা একাধিক সহযোগী সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশ করে একটি ভুয়ো ও জাল বিল্ডিং প্ল্যান তৈরি করেন।

    তদন্তে উঠে এসেছে, হাওড়া পুরসভার নামে জারি হওয়া বলে দাবি করা ওই জাল বিল্ডিং প্ল্যানটি পিএনবির কাছে আসল নথি হিসেবে জমা দিয়ে ৩.৯০ কোটি টাকার ক্যাশ ক্রেডিট ঋণ নেওয়া হয়। ঋণ পাওয়ার পর অভিযুক্তরা নির্ধারিত সময়ে কোনও ইএমআই জমা দেননি এবং ঋণের টাকাও ফেরত দেননি।

    পুলিশের অভিযোগ, পরে ওই বিপুল ঋণের অর্থ বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা ও কোম্পানির মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয় এবং নিজেদের আর্থিক লাভের জন্য সেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ধারা ৬১(২), ৩১৮(৪), ৩১৬(২), ৩৩৮, ৩৩৬(৩) এবং ৩৪০(২)-এর অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

    তদন্তের স্বার্থে গভীর রাতে ডিডি-র এসআইটি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়। সেই অভিযানে মানস রায়, তাপস রায় এবং তন্ময় রায়কে হাওড়ার নন্দলাল চট্টোপাধ্যায় লেনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১.৫৫ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অর্থ পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। এই অভিযানে ডিডি-র এসআইটি-কে অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড দলের সদস্যরাও সহায়তা করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। একই সঙ্গে এই প্রতারণা চক্রে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং ঋণের অর্থ কোথায় কোথায় সরানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
  • Link to this news (আজকাল)