• মমতার জমানার ‘টেন্ডার’ নীতি এবার বদলে দিচ্ছে নবান্ন!
    আজকাল | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • দীক্ষা ভুঁইয়া

    আর্থিক দুর্নীতি রুখতে সরকারি দপ্তরে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন এজেন্সি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন, জরুরি পরিষেবায় ব্যাঘাত এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের দায় এড়ানো যাবে না। এই বার্তা দিয়েই সমস্ত দপ্তর, অধীনস্থ সংস্থা, কর্পোরেশন এবং পাবলিক সেক্টর উদ্যোগের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন।

    মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, বর্তমানে একাধিক দপ্তরে দেখা যাচ্ছে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও নতুন টেন্ডার ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে জরুরি ভিত্তিতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো, একক সিদ্ধান্তে পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া বা প্রশাসনিক জটিলতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে শুধু সরকারি কাজই ব্যাহত হচ্ছে না, আর্থিক ও আইনি জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি এড়াতেই সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে থেকেই নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। কোনও কারণে নির্ধারিত সময়ে টেন্ডার শুরু করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। অর্থাৎ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের জন্য ব্যক্তিগত জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার।

    নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিষেবা চালু রাখতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে তা শুধুমাত্র প্রচলিত আর্থিক বিধি ও সরকারি নিয়ম মেনেই করতে হবে। কোনওভাবেই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়া যাবে না।

    নবান্নের শীর্ষ প্রশাসনিক মহলের মতে, এই নির্দেশিকার লক্ষ্য হল টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পিত ক্যালেন্ডার তৈরি করা, যাতে পরিষেবা গ্রহণে কোনও শূন্যতা তৈরি না হয় এবং সরকারি ক্রয় ও পরিষেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বজায় থাকে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে শেষ মুহূর্তে চুক্তি বাড়ানোর প্রবণতায়ও লাগাম টানতে চাইছে রাজ্য সরকার।

    প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। জরুরি ভিত্তিতে চুক্তি বাড়ানোর প্রবণতা কমবে এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে।
  • Link to this news (আজকাল)