• তসলিমার ফিরে আসা নিয়ে শুভেন্দুকে ধন্যবাদ রঞ্জনের
    আজকাল | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • পল্লবী ঘোষ: ২০ বছর পার। অন্যতম প্রিয় শহরে ফিরছেন তসলিমা নাসরিন। ওপার বাংলায় নয়। এপার বাংলায়। তাঁর ফিরে আসার খবর ছড়াতেই বাংলার সাহিত্য জগত থেকে পাঠক মহলেও আলোড়ন। এবার মুখ খুললেন সাহিত্যিক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। 

    আজকাল ডট ইন-কে রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, "আমি চাই তসলিমা ফিরে আসুন। কলকাতায় তাঁর আগের মতো থাকার জায়গা হোক। যেখানে তাঁর সঙ্গে আমরা আবার দেখা করতে পারব, গল্প করতে পারব, আগেকার দিনগুলো ফিরে পাব‌। তসলিমা আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে তো আর প্রাত্যহিক যোগাযোগ নেই। কিন্তু ওঁর লেখা আমি পড়ি।" 

    তসলিমার নির্বাসন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, "স্বদেশ থেকে নির্বাসিত লেখকের অভাব নেই পৃথিবীতে। দেশ শুধু নয়, নিজের ভাষা থেকে নির্বাসিত হয়েছেন অনেকে। যেমন, মিলান কুন্দেরা। তিনি চেক দেশের লেখক। তাঁর লেখা 'জোকস' বইটিতে কমিউনিজমের বিরোধিতা করা হয়েছিল, নির্যাতনের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন তিনি। সেইসময় ওঁকে বলা হয়েছিল, 'তুমি তোমার অতীত আমাদের কাছে বিক্রি করে দাও, তোমাকে ভবিষ্যৎ দেব আমরা। অতীতের ভাবনা আর ভাববে না, লেখালেখি করবে না।' তখন তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। নির্বাসিত হয়েছিলেন নিজের ভাষা থেকেও। এরপর তিনি প্যারিসে থাকতে শুরু করেন, ফরাসি ভাষায় লিখতে শুরু করলেন। এমন আরও অনেকেই আছেন, যাঁরা বিদেশে থেকে কাজ করেছেন।" 

    দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতায় ফিরতে চেয়েছেন তসলিমা। তাঁর ফেরার খবর পাওয়ার পর রঞ্জন জানালেন, "তসলিমার প্রিয় শহরগুলোর মধ্যে একটি কলকাতা। কলকাতাকে ও চিরদিন ভালবেসেছে‌। কলকাতার বহু সাহিত্যিক, লেখক, এমনকী বাঙালিরাও ওকে ভালবেসেছে। তসলিমার বন্ধুদের মধ্যে আমিও একজন। ফিরে এলে আমি খুব খুশি হব। ও যেন শান্তিতে থাকতে পারে, নিজের ইচ্ছেমতো লিখতে পারে, এই স্বাধীনতা ওর এই দেশে থাকবে, আশা করছি। আমি লেখকের স্বাধীনতায়, প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমি মনে করি, যে লেখায় অন্যেরা হয়তো কষ্ট পাবেন না, কিন্তু নিজের মনের কথা বলতে পারব, নিজের ভাষায় বলতে পারব, কিছু লুকোতে হবে না আমায়, সেই জায়গাটুকু তসলিমা-সহ সকল শিল্পীর যেন থাকে, তাহলেই সমাজটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাঁচে।" 

    ২০০৭ সালে 'দ্বিখণ্ডিত' উপন্যাসের জন্য প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতা। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল তসলিমার ওপর। বাম জমানার পর বিগত সরকারের আমলেও তসলিমার ওপর সেই নিষেধাজ্ঞা ওঠেনি। এ প্রসঙ্গে রঞ্জন বললেন, "আমি চাই তসলিমা আবার বাংলা ভাষায় লিখুন। 'দ্বিখণ্ডিত'র মতো উপন্যাস আরও লিখুন। ওর এখন যে মনের অবস্থা, ও এখন যে কথা বলতে চায়, আমি চাই সেটা যেন ও নির্দ্বিধায় বলতে পারে। মুক্তকন্ঠে বলতে পারে। যে ভাষায় ও বলতে চায়, স্বাধীনভাবে যেন বলতে পারে। তসলিমার ফিরে আসাটা আমার কাছে প্রতীকী ফিরে আসা। অর্থাৎ স্বাধীনতার প্রতীক উনি, স্বাধীনতার কন্ঠ উনি। এরকম প্রত্যাবর্তন খুব কম ঘটেছে ইতিহাসে। এই প্রত্যাবর্তন তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। আমি স্বাগত জানাচ্ছি ওকে। ও যেন ফিরে এসে বুঝতে পারে ২০০৭ ও ২০২৬-এর কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ এক নয়। এখন আমরা অনেক মুক্ত, অনেক প্রকাশপ্রবণ হয়েছি। নিজের কথা বলার মতো স্বাধীনতা সম্ভবত ফিরে এসেছে। এর জন্য পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে কৃতজ্ঞ। যে উদ্যোগ উনি নিয়েছেন, এটা পশ্চিমবঙ্গে নতুন যুগের সূচনা হল।" 

    শুধু কলকাতা নয়, নিজের দেশে বাংলাদেশেও একাধিকবার ফিরতে চেয়েছেন তসলিমা। সমাজমাধ্যমেও সেই আবেদন জানিয়েছেন সরকারকে। যদিও ইতিবাচক কোনও সাড়া পাননি। রঞ্জনের কথায়, "বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশে একটাই কথা বলব, আপনারা একটু বড় হোন। ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে একটু বেরিয়ে আসুন। ধর্ম যে যার মতো পালন করুন, আর মানবধর্ম মেনে চলুন। সবাই সবাইকে ভালবাসুন। এত সংকীর্ণতা কেন!"
  • Link to this news (আজকাল)