• 'মমতা তৃণমূল' কোথায় ২১ জুলাই করতে পারবে? জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট
    আজ তক | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরকে বিড়লা প্ল্যানিটোরিয়ামের সামনে ২১ জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, অনধিক আড়াই হাজার লোক নিয়ে ওই কর্মসূচি পালন করা যাবে। একদিকের রাস্তা বন্ধ করে সভা করতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা।  তবে এই সভা করার জন্য একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছে হাইকোর্ট। 

    এদিন শুনানিতে বিচারপতি জানান, পুলিশকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসূচি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে। এছাড়াও কালীঘাট তৃণমূল ইউনিটের ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর ১৮ জুলাই বিকেল ৪ টের মধ্যে পুলিশের যুগ্ম কমিশনারের কাছে জমা দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ অমান্য হলে তাঁরাই দায়ী থাকবেন। তাঁদের নিশ্চিত করতে হবে, রাস্তার উল্টো দিকে সমর্থকদের জমায়েতের কারণে যেন কোনও বাধা না সৃষ্টি হয়। আদালত পুলিশকে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখারও নির্দেশ দিয়েছে।

    শুনানির সময় কী বলা হয়?

    রাজ্য সরকারের আইনজীবীর তরফে কোর্টে জানানো হয়, বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ৫,০০০ জনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। সেখানে সর্বোচ্চ ৫০০ জনের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সুবোধ মল্লিক স্ক্যয়ারে প্রায় ২,০০০ জনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

    তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা একাধিকবার অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পরে আবেদন করা আরও দু’টি দল অনুমতি পেয়ে যায়। আমরা ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের জায়গার জন্য আবেদন করেছিলাম।' তখন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, 'মেট্রো চ্যানেল বা ডোরিনা ক্রসিংয়ে অনুমতি দিতে সমস্যা কোথায়?'রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, 'তা সম্ভব নয়। গান্ধী মূর্তির সামনে একটি দলকে আগেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভিড় বেশি হলে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কর্মসূচি করা উচিত।'

    এরপর বিচারপতি বলেন,'বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কর্মসূচির অনুমতি দিন। সমর্থকদের সংখ্যা সীমিত রাখতে হবে। যদি বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হন, তবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বিকল্প হতে পারে।'তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেন, 'রাজ্য সরকার যদি ২৭ জুনই আমাদের জানিয়ে দিত, তাহলে আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতাম।' 

    রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে আরও জানানো হয়, কংগ্রেসকে শহিদ মিনার ময়দানে ১০,০০০ জনের সভা এবং গান্ধী মূর্তির সামনে ৭০০- ৮০০ জনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, এই বছর তিন জায়গায় শহিদ দিবস পালন করা হবে। ১৯৯৩ সালে পুলিশ গুলিতে নিহত ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর স্মৃতিতে এই দিনটি পালন করা হয়।
  • Link to this news (আজ তক)