ডার্কওয়েবে ফাঁস দেশের সবচেয়ে বড় পরমাণু কেন্দ্রের গোপন তথ্য, কাঠগড়ায় আম্বানিরা! তদন্তের নির্দেশ
প্রতিদিন | ১৫ জুলাই ২০২৬
ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের গোপন তথ্য ফাঁস ডার্ক ওয়েবে! ভারতের তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পরমাণু কেন্দ্রের ১৯০০০টি সংবেদনশীল ফাইল ফাঁস করেছে র্যানসমওয়্যার গ্রুপ ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে সাইবার হামলা চালিয়ে এই তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়া এইসব তথ্য রিলায়েন্স গ্রুপের কাছ থেকে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে হ্যাকারদের তরফে। পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তায় এহেন বড়সড় গলদ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে ‘ইন্ডিয়ান কম্পিউটার এমারজেন্সি রেসপন্স টিম’ (CERT-In)।
হ্যাকিং সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড লিকসের’ দাবি, র্যানসমওয়্যার-এর মাধ্যমে পরমাণু কেন্দ্রটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল আম্বানির রিলায়েন্স এডিএজি-র একটি সার্ভার হ্যাক করে এই তথ্য হাতে পেয়েছে তারা। ফাঁস হওয়া নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে পরমাণু কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশের স্থাপনার নকশা, আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, যন্ত্রাংশের নকশা, সরবরাহকারীদের বিস্তারিত বিবরণ, এমনকী নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যও। নিজেদের সার্ভারে সাইবার হানা ও তথ্য ফাঁসের কথা স্বীকার করে নিয়েছে অনিল আম্বানির সংস্থাও। তারা জানিয়েছে, ডেটা সেন্টারের তরফে তৃতীয় পক্ষকে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘ইয়োট্টা’ পরিচালিত একটি সার্ভারে তাদের ডেটার আংশিক লঙ্ঘন ঘটে। যার জেরেই এটা হয়েছে। সরকারকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বিশদ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে কী কী তথ্য ফাঁস হয়েছে সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি সংস্থাটি। তবে এই ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ-এর সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রথ। তিনি বলেন, এহেন তথ্য ফাঁসের ঘটনা পরমাণু কেন্দ্রটির নিরাপত্তার জন্য বড়সড় হুমকি।
ভারত-সহ বহু দেশের পরমাণু নিরাপত্তা পর্যালোচনা করে নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ। পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ দেয়। তাদের মতে, এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে ভারতে সাইবার হামলার ঘটনা কার্যত ‘জলভাতে’ পরিণত হয়েছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কাছে এই সংকট মোকাবিলার জন্য সঠিক প্রস্তুতিও নেই। এদিকে ওয়ার্ল্ড লিকস-এর ওয়েবসাইটে রিলায়েন্সের ৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ফাইল ফাঁস হয়েছে। যার মধ্যে ১৯০০০ ফাইলকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশের সবচেয়ে বড় এই পরমাণু কেন্দ্রের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল আম্বানির রিলায়েন্স এডিএজি। ২০১৮ সালে প্ল্যান্টটির ইউনিট ৩ এবং ইউনিট ৪-এর স্থাপনা নকশা ও নির্মাণের চুক্তি পায় তারা। এই দুটি ইউনিট ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা। যা সম্পন্ন হলে এই পরমাণু কেন্দ্র থেকে ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তা সম্পন্ন হওয়ার আগেই পরমাণু কেন্দ্রের বহু গোপন নথি ফাঁস হওয়ার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রসঙ্গত, ওয়ার্ল্ড লিকস হল কুখ্যাত এক র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী, যারা এর আগে ‘নাইকি’ এবং ভারতের ‘টাটা গ্রুপে’র মতো সংস্থায় সাইবার হামলা চালিয়েছিল।