• ‘এ শহর আমার ভিতরই ছিল, নির্বাসন শেষে ফিরছি’, কলকাতা ফেরা নিয়ে আবেগে ভাসলেন তসলিমা
    প্রতিদিন | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ‘নির্বাসন’ পর্ব কাটিয়ে প্রায় ২০ বছর পর ‘মুক্ত’ বাংলায় পা রাখতে চলেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।  আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন লেখিকা। বদলের বাংলায় সংস্কৃতি জগতের জন্য এ এক দারুণ আনন্দের খবর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘হারিয়ে যাওয়া ঘরে’র দ্বার ফের তাঁর জন্য খুলেছে, আনন্দে ভাসছেন তসলিমা নাসরিন। বললেন, “কলকাতা আমার কাছে শহর নয়। হারিয়ে যাওয়া ঘর। মনে হচ্ছে নির্বাসনের পর ঘরে ফিরছি। আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ। যারা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ।”

    ২০০৭ সালের নভেম্বরে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তসলিমা নাসরিনকে। কারণ,  সেই সময় তসলিমার ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতা। কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে তাঁর আগুনঝরা কলমের ‘খোঁচা’য় সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতে তীব্র অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি যে তা সামলাতে সেনা নামাতে হয়েছিল। সেসময় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর নিজস্ব বৃত্তের অর্থাৎ বামমনস্ক সাহিত্যিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তসলিমা নাসরিনের বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কলকাতা ছাড়তে বলা হয় তাঁকে। যে বামপন্থীরা ধর্মনিরপেক্ষ বলে গর্ববোধ করে, সেই সরকারের আমলে এমন এক নিদর্শন নিঃসন্দেহে  বাংলার সাহিত্য জগতে অন্ধকার অধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ বছর মসনদে থাকলেও তসলিমাকে ফেরানো নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি।

    রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার আসতেই আলোকময় ঘটনার সূচনা করতে চলেছে।  আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন লেখিকা। আয়োজক সেক্যুলার মিশন, এইচআরবিএফএফ।  সেই মঞ্চে থাকতে পারেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। এতবছর পর কলকাতা ফিরবেন, তা নিয়ে আবেগে ভেসে গিয়েছেন বিতর্কিত এই লেখিকা। তসলিমার কথায়, “১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর কলকাতায় ফিরছি। অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কলকাতা আমার কাছে শুধু শহর নয়। আমার হারিয়ে যাওয়া ঘর। ২০০৭ সালের নভেম্বরে শহর ছাড়তে হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা আমার মনের ভিতর ছিলই। এতবছর পর কলকাতার মাটিতে পা রাখব। আনন্দ, আবেগ, বেদনা- একসঙ্গে সব অনুভূতি কাজ করছে। মনে হচ্ছে নির্বাসনের পর ঘরে ফিরছি।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)