কোনও রাজনৈতিক পরিবার থেকে তাঁর উঠে আসা নয়। তবে রাজনীতির ময়দানে নামার পিছনে অনেক স্বপ্ন জড়িয়ে রয়েছে। সম্প্রতি সেই স্বপ্নে ‘ব্যাঘাত’ ঘটেছে বলেই তিনি দল বদলাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানালেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে হুগলিতে রচনাকে প্রার্থী করে বড় চমক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ভোটে আশানুরূপ ফল করে তৃণমূল। রচনাও জেতেন। হুগলিতে দলীয় গোষ্ঠীকোন্দলের বিষয়টি বাদ দিলে, মোটামুটি মসৃণই ছিল অভিনেত্রীর তৃণমূল-সফর। তাল কাটল পালাবদলের পরে। রাজ্যে দলে ভাঙন দেখা দিতেই লোকসভার যে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন, রচনা তাঁদেরই এক জন। পরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষদস্তিদারদের নেতৃত্বে তৃণমূল ছেড়ে অখ্যাত রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দেন তাঁরা। সেই দল আবার এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী ২০ জুলাই সংসদে বাদল অধিবেশনেই এনডিএ শরিকের স্বীকৃতি পাবে রচনার দল NCPI। তার আগে বুধবার নিজের কেন্দ্র হুগলিতে যান অভিনেত্রী-সাংসদ। তিনি জেলাস্তরের দিশা কমিটির অনুষ্ঠানে চুঁচুড়ার রবীন্দ্র ভবনে গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বেরোনোর সময়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রচনা বলেন, ‘আমি নরেন্দ্র মোদীজি, অমিত শাহজি এবং শুভেন্দুদার সমর্থক। কোনও চিন্তাভাবনা নিয়ে রাজনীতিতে আসিনি। এখানে যদি দাদার সহযোগিতা পাই, মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা পাই, আমাদের হুগলির প্রচুর উন্নয়ন হবে। আমরা জানি ভালো কাজ হবে। আমরা আর কিছু চাই না।’
চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগকে পাশে নিয়েই রচনা জানান, এ বার সেখানে মনের মতো বিধায়ক পেয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, রচনা সাংসদ হওয়ার পরে তাঁর সঙ্গে চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের নানা বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল। তৃণমূল সূত্রে খবর, সেই দ্বন্দ্ব মেটাতে একসময়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তার পরেও পুরোপুরি মিটমাট হয়নি। শেষে বিধানসভা ভোটে চুঁচুড়া থেকে টিকিট পাননি অসিত। তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। কিন্তু তিনি হেরে যান।