ভরা বাজারে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠল। বুধবার সন্ধ্যায় হাওড়ার আন্দুলে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিতিকা সামন্ত (১৬) নামে ওই নাবালিকাকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই সমীর দাস নামে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ডোমজুড় থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, রিতিকার বাড়ি আন্দুলের মহিয়াড়িতে। সে বলুহাটির গ্রাম্য হিতকরী গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। বুধবার সন্ধ্যায় সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল রিতিকা। অভিযোগ, মহিয়াড়ির খটির বাজারের কাছে আচমকাই ছুরি হাতে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এক যুবক। আচমকা হামলায় ভারসাম্য হারিয়ে সাইকেল থেকে পড়ে যায় রিতিকা। মুহূর্তের মধ্যে তাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে অভিযুক্ত।
খটির বাজারে তখন যথেষ্ট ভিড় ছিল। চোখের সামনে এমন নৃশংস ঘটনা দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত মানুষজন। রিতিকাকে বাঁচাতে ছুটে যান কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দা। কিন্তু ততক্ষণে তার গলা, বুক ও পেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে। স্থানীয়রাই সমীরকে হাতেনাতে পাকড়াও করে বেদম মারধর করেন বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় রিতিকাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডোমজুড় থানার পুলিশ। সেখান থেকেই অভিযুক্ত সমীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ডোমজুড়ের একটি কারখানায় কাজ করত সমীর। কিছুদিন ধরে ছাত্রীকে প্রেম নিবেদন করছিল সে। কিন্তু রিতিকা রাজি হয়নি। সেই রাগেই হামলা বলে অনুমান পুলিশের। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
ভর সন্ধ্যায় জনবহুল এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযুক্তকে পাকড়াও করে তদন্ত শুরু করেছে ডোমজুড় থানার পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।