আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্নেহে কি অন্ধ তিনি? সত্যিই চোখ দিয়ে না দেখে, দেখেন কান দিয়েই? প্রবল বিতর্কের কেন্দ্রে যে অভিষেক, সেই অভিষেককে নিয়েই মন্তব্য করলেন মমতা। উত্তর মিলল? নাকি বিতর্ক বাড়ল।
একের পর এক নেতা, কেউ বর্ষীয়ান, কেউ বয়সে ছোট অনেক। তাঁদের মতের মিল এক জায়গায়, অভিষেক বিরোধীতা। কোহিনূর মজুমদার, সুদীপ রাহা থেকে অনুব্রত মণ্ডল, মদন মিত্র। মমতার হাত ছেড়েছেন তাঁরা যে কারণ দেখিয়ে, তার প্রথম এবং প্রধান কারণ অভিষেক। কেউ বলেছেন, মমতা স্নেহে অন্ধ, কেউ বলছেন, মমতা অভিষেককে সরিয়ে দিলে, অনেকেই ফের ফিরে আসবেন তাঁর শিবিরেই। এই পরিস্থিতিতে আচমকা লাইভে মমতা। অভিষেক নিয়ে কী বার্তা মমতার? শুনলেন কি দীর্ঘদিনের নেতা-রাজনৈতিক কর্মীদের কথা। নাকি আস্থা রাখলেন সেই অভিষেকেই।
এদিন মমতা নিজের কথার মাঝেই অভিষেকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। মমতা বলেন, 'অভিষেক অনেক খারাপ আপনাদের কাছে। বাহানা হয়ে গিয়েছে। অভিষেকের স্ত্রী যদি দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে সিবিআই অফিসে যেতে পারে, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল, মনে নেই। ২৫-৩০টা কেস দেওয়া হয়েছে। সে তো সহ্য করছে। একটি সেটিং করে নিলে, স্বস্তি পেত। অভিষেক আপনাদের বাহানা। আপনাদের চোখে সে কোনও অন্যায় করে থাকলে তা ক্ষমা হয়ে গিয়েছে, কারণ সে আজ লড়ে যাচ্ছে বাঘের মতো। এরাই লড়বে, এরা আগামী ৫০ বছর রাজনীতি করবে।'
মমতার অভিযোগ, তাঁর দলের কর্মীদের এলাকায় মিটিং করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তারপরেই তিনি বলেন, 'যাঁরা এলাকায় মিটিং করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য আমার অফিস উন্মুক্ত আছে। এখান থেকেই আমি তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছি। ১৯৮৪ সালের সাংসদ হওয়া বা তার আগে থেকে এখান থেকেই কার্যালয় চালাতাম। সেদিন যদি করতে পারি, আজকেও করতে পারব।' পুলিশকেও একহাত নেন। বলেন, 'আইসি হয়েছেন বিজেপির ব্লক সভাপতি, এসপিরা হয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি। তাঁরা এলাকায় এলাকায় গিয়ে বিধায়কদের, কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছেন।' মমতার অভিযোগ, শিবির বদলের ভয় দেখানো হচ্ছে জোর করে।
শুধু এটুকুই নয়, মমতা এদিন বলেন, 'আজকে যদি সেটিং আমি নিজে করে নিতাম, তাহলে তো এই অত্যাচার আমাদের সহ্য করতে হতো না। কিন্তু আমি কোনওদিন আদর্শ বিকিয়ে খাই না, মূল্যবোধ বিকিয়ে খাই না।' একের পর এক সঙ্গ ছাড়ার মাঝে তিনি বললেন, 'মানুষই আমাদের জাগত শক্তি, যে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ কর্মীরা এখনও আছে, তাঁরাই আমার সোনার কর্মী।'