রথ মানে আপনার কাছে জিলিপি, পাঁপড় ভাজা হতে পারে, কিন্তু ত্রিদেবতা জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার কাছে তো তা নয়। তাদের উদযাপনের দিনে তাদের জন্য ছাপ্পান্ন ব্যাঞ্জন আয়োজিত হবে, সে তো বলাই বাহুল্য। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ছাপ্পান্ন নয়, ৯০-এর কাছাকাছি বিভিন্ন খাবারের আয়োজন এদিন থাকে ত্রিদেবতার জন্য। এ বছর, আগামিকাল, অর্থাৎ ১৬ জুলাই দেশজুড়ে পালিত হবে রথ। সেই আয়োজন হচ্ছে কলকাতার ইসকনেও। এদিন নিজের বাড়ি থেকে মাসির বাড়ি যাবে জগন্নাথ। সঙ্গে যাবে বলরাম ও সুভদ্রা। আর সেই বাড়িতে নৈশভোজে থাকবে ছাপান্ন ভোগ, আর প্রাতঃরাশ থেকে যাতায়াতের পথে অন্য খাবারদাবার তো আছেই। সব মিলিয়ে বিপুল আয়োজন।
রথের সময় মাসির বাড়ি যাওয়ার পর তিনজনের আদর-যত্নে যাতে কোনও খামতি না থাকে, তার জন্য সবরকম খেয়াল রাখা হয়। রথযাত্রার দিন সকাল সাড়ে সাতটায় ৫৬ ভোগ থেকেই ৩০ থেকে ৩৫ রকম খাবার জগন্নাথ দেবকে দেওয়া হয়। জগন্নাথকে যে ভোগ দেওয়া হয় সেই একই ভোগ বলরাম ও সুভদ্রাকে দেওয়া হয়। জগন্নাথ যখন রথে চড়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন, সেই সময় বিভিন্ন জায়গা ঘুরে তিনি মাসির বাড়িতে পৌঁছন। সেই সময় মেনুতে থাকে শুকনো খাবার মিষ্টি ও ফল। সেই তালিকা বিস্তারিত হল, শুকনো মিষ্টি, খাজা, গজা, মগজ লাড্ডু, খুরমা, শাক্করপাড়া (মিষ্টি শঙ্করপালি), ঠেকুয়া, জগন্নাথ বল্লভ, কোড়া খই (গুড় মাখানো খই), নাড়িয়া কোরা (শুকনো নারকেলের টুকরো), মিঠা খই (মিষ্টি খই), নোনতা খাবার, সুহালি, কলার চিপস, নোনতা খুরমা, নোনতা মিশ্রণ, ঝুরিভাজা, চিঁড়ের মিশ্রণ (চিভড়া), মশলা চিনাবাদাম, ভাজা ছোলা, ঐতিহ্যবাহী ওড়িয়া বিশেষ পদ, ছানাপোড়া, আরিসা পিঠা, কাকরা পিঠা, পোড়া পিঠা, ছেনাগজা, রসাবলি, ছেনা ঝিলি। এছাড়াও আম, কলা, কাঁঠাল, নারকেল , আপেল খেজুর, নিবেদন করা হয়।
মাসির বাড়ি জগন্নাথদেব যখন পৌঁছয় সেই সময় ৫৬ ভোগ দেওয়া হয়।তবে নামে ছাপান্ন হলেও পদ একশোরও বেশি ছাড়িয়ে যায়৷ কী কী থাকে সেই মেনুতে?
গোবিন্দ ভোগ চালের অন্ন, হিং দিয়ে অড়হর ডাল, বড়ি দিয়ে নটেশাক, জিরে বাটা দিয়ে সবজি, সর্ষে বাটা দিয়ে সবজি, কণিকা–ঘি, কিশমিশ ও সুগন্ধি মশলা দিয়ে তৈরি মিষ্টি ভাত, মুগ ডাল দিয়ে রান্না করা খিচুড়ি, পখালা–জল ভিজিয়ে রাখা ঠান্ডা ভাত, কোশলা শাক, মহুরা পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবহার করা হয়, অড়হর বা মুগ ডাল, কাঁচা কলা, কুমড়ো কাঁচা পেঁপে, বেগুন, মিষ্টি আলু, সজনে ডাঁটা ওড়িশার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী পদ ডালমা, কলার বড়া দিয়ে তৈরি ঝোল কদলি, হাতিফল ও গুড় দিয়ে তৈরি টক-মিষ্টি পদ ঔউ খট্টা। এছাড়াও, বিভিন্ন ফল আম আনারস দিয়ে তৈরি টক-মিষ্টি পদ, কাঁচা কলার তরকারি, কুমড়োর তরকারি, কচুর তরকারি, কচু দিয়ে প্রস্তুত পটল রসা, ঝিঙের তরকারি, জিরা ও আদা দিয়ে রান্না করা ঢেঁড়স, ফুলকপির তরকারি। এছাড়াও নানা রকম ভাজা ও পিঠা জাতীয় পদ। এছাড়া, বড়া (অড়হর ডালের বড়া), সুয়ারা বড়া, কাকরা পিঠা, মান্ডা পিঠা, এন্ডুরি পিঠা। এছাড়াও ক্ষীর পায়েস রাবড়ি, মিষ্টি দই, ছেনা ক্ষীরি, মিষ্টি দই।
ইসকন কলকাতা চেয়ারম্যান অনঙ্গ মোহন দাস বলেন, “এই সাতদিন আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করি মহাপ্রভুর জন্য বিভিন্ন রকমারি পদ দিয়ে ভোগ নিবেদন করার। জগতের নাথ যে ক'দিন মাসির বাড়িতে থাকবেন, ততদিন তাঁর পছন্দের সব ধরনের খাবার তৈরি করে তাঁকে সন্তুষ্টি করার চেষ্টা করেন তাঁর ভক্তরা।”