• ট্রেন এলেই থমকে যায় চাকা! মলমূত্র-থুতুর বৃষ্টি রুখতে এবার হাওড়ার এই আন্ডারপাসে সুরক্ষাকবচ
    News18 বাংলা | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • : ট্রেনের হুইসেল কানে এলেই থেমে যায় পথচলা। কেউ সাইকেল নিয়ে, কেউ বাইক বা টোটো নিয়ে আন্ডারপাসের মুখে দাঁড়িয়ে পড়েন। কারণ, ট্রেন চলে যাওয়ার সময় উপর থেকে নীচে পড়তে পারে মলমূত্র, থুতু কিংবা অন্যান্য বর্জ্য তাই থমকে যান। বছরের পর বছর ধরে এই দৃশ্যই যেন হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার অন্তর্গত চ্যাটার্জিপাড়া আন্ডারপাস এবং দাস নগর রেল আন্ডারপাসের নিত্যদিনের দৃশ্য। প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী ও নিত্যযাত্রী এই সমস্যার মুখোমুখি হন। অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের জনভোগান্তির স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। রেল এবং দাসনগর ট্রাফিকের পক্ষ থেকে এলাকা পরিদর্শন হয়েছে। রেললাইনের নীচে বিশেষ সুরক্ষা শেড তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    চ্যাটার্জিপাড়ার নটবর পাল রোডের এই আন্ডারপাস এবং দাসনগর আন্ডারপাস হাওড়ার অন্যতম ব্যস্ত পথ। প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী, সাইকেল আরোহী, বাইক, টোটো-সহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যানবাহন এই রাস্তা ব্যবহার করে। একদিকে এই রাস্তা বেলগাছিয়া মোড়ের সঙ্গে যুক্ত, যেখান থেকে কোনা ও সালকিয়ার দিকে যাতায়াত করা যায়। অন্যদিকে রয়েছে ব্যস্ত হাওড়া-আমতা রোড, যা হাওড়া ময়দান, ডোমজুড়-সহ একাধিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রাস্তা। ফলে সকাল-বিকেলের অফিস টাইমে এই আন্ডারপাসে ব্যাপক যানচাপ থাকে।

    কিন্তু এই আন্ডারপাসের ঠিক উপর দিয়েই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর শাখার একের পর এক লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রেন যাওয়ার সময় অনেক পুরনো কোচের টয়লেট থেকে মলমূত্র সরাসরি নীচে পড়ে। পাশাপাশি বহু যাত্রী জানালা কিংবা দরজা থেকে থুতুও ফেলেন। ফলে দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় পথচারীরা ট্রেন না যাওয়া পর্যন্ত আন্ডারপাসে প্রবেশ করতে সাহস পান না। সাইকেল, বাইক ও টোটো চালকরাও নিরাপত্তার স্বার্থে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। এর ফলে রাস্তার দু’দিকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। বিশেষ করে স্কুল ও অফিসের ব্যস্ত সময়ে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছয়।

    এই সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা দাশনগর ট্র্যাফিক গার্ডে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। ট্র্যাফিক গার্ডের পক্ষ থেকেও একাধিকবার লিখিতভাবে দক্ষিণ-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান হয়। যদিও দীর্ঘদিন শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনও কাজের অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দাশনগর ট্র্যাফিক গার্ডের পুলিশ আধিকারিকরাও। কীভাবে রেললাইনের নীচে একটি সুরক্ষা শেড তৈরি করা যায়, যাতে ট্রেন থেকে পড়া মলমূত্র, থুতু বা অন্য কোনও বর্জ্য সরাসরি রাস্তায় না পড়ে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আন্ডারপাসের মুখে থাকা হাইট বারে উল্লেখ রয়েছে, সর্বাধিক সাড়ে তিন মিটার উচ্চতার যানবাহনই ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে। রেললাইনের নীচে শেড নির্মাণ করা হলে সেই উচ্চতা আরও কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে আন্ডারপাসের রাস্তা আরও কিছুটা গভীর করার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। তবে রাস্তা নিচু করা হলে বর্ষাকালে যাতে জল না জমে, তার জন্য আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থারও পরিকল্পনা করা হতে পারে বলে খবর।

    নিত্যযাত্রী বলেন, প্রতিদিন এই আন্ডারপাস দিয়েই অফিসে যাই। ট্রেন এলেই দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। অনেক সময় ট্রেন থেকে মলমূত্র, নোংরা জল বা থুতু নীচে পড়ে। খুবই অস্বস্তিকর এবং লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাচ্চা, মহিলা, বয়স্ক—সকলেই সমস্যায় পড়েন। বহুদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান চাইছিলাম। রেল যদি দ্রুত শেড তৈরি করে, তাহলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হবে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)