• ঘুম ভাঙতেই...গলায় কাটারি ঠেকাল এক মুখোশধারী! তারপরে সারা বাড়িতে তন্ন তন্ন করে খুঁজল টাকা..তারপর
    News18 বাংলা | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • গভীর রাতে বাড়িতে হানা দুই মুখোশধারী দুষ্কৃতীর। ঘুম ভাঙতেই গৃহকর্তার গলায় ধারাল কাটারি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি। তারপর বাড়ি জুড়ে তছনছ চালিয়ে লুটপাটের চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত পাড়াপড়শিরা জেগে উঠতেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় দুই দুষ্কৃতী। পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম থানার পিচকুড়ি গ্রামে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। আক্রান্ত ফজলুর রহমান পিচকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক। তিনি জানান, রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ মুখ ঢাকা দুই দুষ্কৃতী বাড়ির পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢোকে। বারান্দার গ্রিল গেটে তালা থাকলেও, একটি কঞ্চির সাহায্যে পেরেকে ঝোলানো চাবি বের করে তালা খুলে ফেলে তারা। এরপর দরজা খোলা থাকা দুটি ঘরে ঢুকে শুরু হয় তল্লাশি।

    আলমারি খুলে ফেলা হয়, একটি কাঠের বাক্সের তালা ভেঙে জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেওয়া হয় গোটা ঘরে। তল্লাশির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় ফজলুর রহমানের। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক দুষ্কৃতী তাঁর গলায় ধারাল কাটারি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আতঙ্কে তিনি আর বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। পরে দুষ্কৃতীরা অন্য ঘরের দরজা ভাঙার চেষ্টা শুরু করলে সুযোগ বুঝে নিজের ভাই এবং পড়শিদের ফোন করে খবর দেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের মানুষ জড়ো হতে শুরু করতেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় দুষ্কৃতীদের। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

    ফজলুর রহমানের দাবি, মাত্র এক সপ্তাহ আগে বাড়ির ধান বিক্রি করা হয়েছিল। সেই টাকা বাড়িতে রয়েছে, এমন তথ্য আগে থেকেই দুষ্কৃতীদের জানা ছিল বলেই তাঁর সন্দেহ। উদ্দেশ্য ছিল সেই টাকা লুট করা। জানা গিয়েছে, বাড়িতে ফজলুর রহমানের অসুস্থ মা, বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। মায়ের অসুস্থতার কারণে সেদিন রাতে নিজের ঘরের দরজা খোলা রেখেই ঘুমিয়েছিলেন তিনি। সেই সুযোগকেই কাজে লাগায় দুষ্কৃতীরা।

    রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আউশগ্রাম থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)