আবাস যোজনার তালিকায় নাম রয়েছে। টাকা ঢুকেছে। তা তোলাও হয়েছে। অথচ জানেন না উপভোক্তারাই। পুরসভার কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতেই সামনে এল দুর্নীতি! তৃণমূল আমলের আবাস যোজনায় আরও এক দুর্নীতির পর্দাফাঁস। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। উপভোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে ডোমকলের এসডিও শুভঙ্কর বালার কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভানেত্রী সুজাতা মালাকার।
ঘটনাটি ডোমকল পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ২৫ জনের নাম তালিকায় ওঠে। কিন্তু তাঁরা কিছুই জানতেন না। অথচ তাঁদের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। টাকা ঢুকেছে অন্য অ্যাকাউন্টে। এতদিন পর কেন অভিযোগ?
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর ফের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। ডোমকল পুরসভার কর্মীরা সম্প্রতি বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করছেন। এই অবস্থায় ওই ২৫ জনকে হয়, তাঁদের নামে আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হয়েছিল। সেই টাকাও তোলা হয়েছে। অথচ বাস্তবে তাদের বাড়িতে নেই ঘর! তাঁরা জানান কোনও ঘর বা আর্থিক সাহায্য তাঁরা পাননি।
বিজেপি নেত্রী সুজাতা মালাকারের দাবি, তথ্য যাচাইয়ের সময়ই এই অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর ক্ষতিগ্রস্তরা একজোট হয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এ দিন এসডিওর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি তৎকালীন কাউন্সিলর আসরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তুলেছেন এক উপভোক্তা আলেমা বেওয়ার। তাঁর দাবি, আবাস যোজনার ঘরের টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন আসরাফুল। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আসরাফুল। তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। কারও কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। আর কার অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা যাবে, তা প্রশাসনের বিষয়। এতে জনপ্রতিনিধিদের কোনও ভূমিকা নেই।”