আজও টাটকা ‘৮৬-র ক্ষত! এবার আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ‘বদলা’? আরও বড় লক্ষ্য ট্রেভর মর্গানের
প্রতিদিন | ১৫ জুলাই ২০২৬
বিতর্ক আর বিতর্ক। ১৯৬৬, ১৯৮৬, ১৯৯৮। একের পর এক বিতর্কিত ঘটনা। যার মধ্যে নিঃসন্দেহে সবার উপরে থাকবে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’। আবার বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) মুখোমুখি আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড (Argentina vs England)। ১৯৮৬-এ সেই যন্ত্রণা যে ইংরেজরা সহ্য করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ট্রেভর জেমস মর্গান। ইংল্যান্ড কি পারবে ‘বদলা’ নিতে? তার জন্য কী করতে হবে? অতীতের ঘা বুকে নিয়ে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এ বিশ্লেষণে ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ মর্গান।
জন্ম-কর্ম ইংল্যান্ডে হলেও তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার পারথে থাকেন। ১৯৮৬-র স্মৃতি এখনও তাঁর চোখে ভাসে। তার সঙ্গে আরেকটা জিনিসও এত বছর পর মর্গানকে মুগ্ধ করে রেখেছে। সেটা হল মারাদোনার দ্বিতীয় গোলটি। একক দক্ষতায় ৫ জনকে কাটিয়ে পিটার শিলটনকে বোকা বানিয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তি। একই ম্যাচে দু’টো অবিশ্বাস্য গোল। কিন্তু এতদিন পরে এসে মর্গান আর প্রতিশোধের তত্ত্বে বিশ্বাস করেন না। তাঁর লক্ষ্য আরও বড়। বলছিলেন, “আমার মনে হয়, এত বছর আগে যা ঘটেছিল তা নিয়ে বাড়াবাড়ি হয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠা। তখন যা ঘটেছিল তার মতো কিছু যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য ভিএআর (VAR) আছে। এটা প্রতিশোধের বিষয় নয়, আসল কাজ হল প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছনো।”
কিন্তু তাবলে কি সেই যন্ত্রণা ভোলা যায়? মর্গান ভোলেননি। তবে ওই বিতর্ক নিয়ে একটু ভিন্নমতে বিশ্বাসী তিনি। মর্গানের বক্তব্য, “পুরো খেলাটা আজও আমার মনে আছে। হ্যান্ডবলের গোলটার পরই মারাদোনা একটি অসাধারণ গোল করেন। হ্যান্ডবল নিয়ে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। কারণ এই হ্যান্ডবলটাই যদি গ্যারি লিনেকার করতেন এবং ইংল্যান্ড জিতত, তাহলে ইংল্যান্ডের সমর্থকরা নিশ্চয়ই খুশি হত।”
তবে শুধু ওই ম্যাচটা তো নয়। ১৯৬৬ সালে আর্জেন্টিনার রাত্তিনের রেড কার্ড, ১৯৯৮ সালে সিমিওনের নাটকে ডেভিড বেকহ্যামের রেড কার্ড। এবারও কি বিতর্ক ধাওয়া করবে? রেফারিং নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনা হচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, ফিফা ও রেফারি নাকি আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। সত্যি? মর্গান মানেন না। তাঁর বক্তব্য, “কিছু লোক অকারণে হইচই করছে। কখন, কী কারণে কার্ড দেখানো হবে, সেটা রেফারির নিজস্ব সিদ্ধান্ত। সব রেফারির ভিন্ন মতামত থাকে। হয়তো এমন জায়গায় লাল কার্ড দেখানো হল, যেটা হলুদ কার্ডও নয়। পুরোটাই মতামতের ব্যাপার।”
রেফারিং নিয়ে বিতর্ক থাকুক। কিন্তু আসল লড়াই হবে মাঠে। যেখানে ৩৯ বছর বয়সের এক ‘বুড়ো’কে থামাতে পরিকল্পনা করবেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। সেই বুড়োটার নাম লিওনেল মেসি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ছক কষবেন জুড বেলিংহ্যামকে আটকানোর। বিশ্বকাপে ৬ গোল করে স্বপ্নের ফর্মে ইংরেজ মিডফিল্ডার। কেমন হবে সমানে-সমানে টক্কর? মর্গানের মতে, “বেলিংহ্যামের মতো ফুটবলারদের থামানো কঠিন। কাজটা সহজ হবে না। কিন্তু মেসিকে থামাতে ইংল্যান্ড কী করবে? কে জানে? আদৌ কি সেই পরিকল্পনা কাজ করবে? বহু বছর ধরেই মেসি বিশ্বমানের। আর্জেন্টিনা জানে, তাঁর উপরই ভরসা করা যায়।”