• ৮০ মিনিটের পরেই বাজিমাত, ইংল্যান্ডকে ২-১ হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্তিনা
    এই সময় | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল লিওনেল মেসির আর্জেন্তিনা। এর ফলে ফাইনালে ওঠার সংখ্যায় তারা ইতালিকে পিছনে ফেলে ব্রাজ়িলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল। এখন তাদের সামনে রয়েছে শুধু জার্মানি।

    সেই সঙ্গে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠল আর্জেন্তিনা। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এ বারও শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সামনে।

    আগামী ১৯ জুলাই, রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা। সেই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন।

    ইংল্যান্ডের একাদশে একাধিক বদল

    জর্ডান পিকফোর্ড, রিস জেমস, জন স্টোন্স, মার্ক গুয়েহি, জেড স্পেন্স, ডেক্লান রাইস, ইলিয়ট অ্যান্ডারসন, জুড বেলিংহ্যাম, মরগ্যান রজার্স, হ্যারি কেন, অ্যান্থনি গর্ডন।

    আর্জেন্তিনার একাদশে দে পলের জায়গায় সিমিওনে

    এমিলিয়ানো মার্তিনেজ়, নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ়, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, গিউলিয়ানো সিমিওনে, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজ়ো ফার্নান্দেজ়, লিওনেল মেসি, জুলিয়ান আলভারেজ়।

    ইংল্যান্ডের আক্রমণে চাপে আর্জেন্তিনা

    ইংল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণে রীতিমতো চাপে আর্জেন্তিনা। রক্ষণে প্রায় সবাইকে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়তে হচ্ছে মেসিদের। ব্যক্তিগত লড়াইগুলিতেও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের গতি ও তীব্রতা প্রতি মিনিটে বাড়ছে, আর প্রথম গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি এখন মনে হচ্ছে ইংল্যান্ডকেই।

    হলো বিরল রেকর্ড

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা দেখা গেল এই ম্যাচে। ১৯৬৬ সাল থেকে তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনও বিশ্বকাপ ম্যাচে প্রথম ৩০ মিনিটে গোলে বা গোল লক্ষ্য করে একটিও শট হয়নি।

    আরও অবাক করার বিষয়, ১৯৬৬ সালের আগের ফুটবলের ধরণ বিবেচনা করলে এটিই সম্ভবত বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ, যেখানে প্রথম আধঘণ্টায় কোনও দলই গোলমুখে শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। আর্জেন্তিনা ও ইংল্যান্ডের সতর্ক এবং ডিফেন্স সামলে লড়াইয়ে তৈরি হয়েছে এই বিরল রেকর্ড।

    বিরতিতে খেলার ফল ০-০

    ম্যাচের প্রথমার্ধে হলো জমজমাট লড়াই। ইংল্যান্ড গতি ও সরাসরি আক্রমণের উপর ভরসা করে এগিয়েছে, আর আর্জেন্তিনা ধৈর্য ধরে পাস খেলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেছে। শুরুর দিকে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ফিরেছে আর্জেন্তিনাও এবং সমান তালে লড়াই করেছে।

    দুই দলই একে অপরকে ভালো ভাবে আটকে রাখায়, ক্লিয়ার গোলের সুযোগ খুব কমই তৈরি হয়েছে। ম্যাচ জুড়ে ছিল কড়া ট্যাকেল, ধাক্কাধাক্কি, উত্তেজনা। তবে বলের দখল নিতে একে অপরকে কোনও ছাড় দিতে রাজি ছিল না দুই দল।

    ১-০ এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড

    ম্যাচের ৫৫ মিনিটে সুসংগঠিত একটি আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। রক্ষণ থেকে ফিরতি বলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেক্লান রাইস দ্রুত ডান দিকে থাকা মরগ্যান রজার্সকে পাস বাড়ান। রজার্স সেখান থেকে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে মাপা একটি ক্রস তোলেন। নাহুয়েল মোলিনার পিছন দিয়ে দৌড়ে এসে অ্যান্থনি গর্ডন বলের গতিপথ ঠিক ভাবে বুঝে নিয়ন্ত্রিত শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ়কে পরাস্ত করেন।

    গোলটি আসে উইং ব্যবহার করে গড়ে তোলা একটি দ্রুত আক্রমণ থেকে। ডান দিক থেকে রজার্সের নিখুঁত ক্রস এবং বক্সে গর্ডনের সময় মতো পৌঁছে যাওয়া ইংল্যান্ডকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেয়। টমাস তুচেলের শুরুর একাদশে রজার্সকে রাখার সিদ্ধান্তও এই গোলের মাধ্যমে সঠিক প্রমাণিত হয়।

    পিকফোর্ড বাঁচালেন ইংল্যান্ডকে

    আক্রমণের শুরুটা করেন লিওনেল মেসি। তিনি বক্সের মধ্যে নিখুঁত একটি ক্রস ভাসিয়ে দেন। বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন নিকোলাস গঞ্জালেস। প্রায় নিশ্চিত গোল বলেই মনে হচ্ছিল, কিন্তু পিকফোর্ড অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ডান দিকে নিচু হয়ে ঝাঁপিয়ে বলটি ফিরিয়ে দেন।

    সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আসে এই সেভ। আর্জেন্তিনা সমতা ফেরানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় দলকে রক্ষা করেন। অনেকের চোখে এটি এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা সেভ হিসেবেও জায়গা করে নিতে পারে।

    অবশেষে সমতা ফেরাল আর্জেন্তিনা

    অবশেষে সমতা ফেরাল আর্জেন্তিনা, আর গোলটিও এসেছে অসাধারণ এক আক্রমণ থেকে। মূলত ৮২ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ় নামতেই যেন বদলে যায় আক্রমণ। এর পরই ৮৫ মিনিটে সমতা ফেরায় আর্জেন্তিনা।

    কর্নার থেকে সরাসরি ক্রস না তুলে ছোট পাসে খেলা শুরু করে আর্জেন্তিনা। এর পর আবারও জাদু দেখান লিওনেল মেসি। ডান প্রান্তে বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে শরীরের ভঙ্গিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে ফাঁকা জায়গায় থাকা এনজ়ো ফার্নান্দেজ়ের কাছে বল পৌঁছে দেন তিনি।

    এনজ়ো ওয়ান টাচে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন। জর্ডান পিকফোর্ড ঝাঁপিয়েও কিছু করতে পারেননি। বল সোজা জালে জড়িয়ে যায়।

    ম্যাচের শেষ দিকে অনেকক্ষণ ধরেই চাপে ছিল ইংল্যান্ড। সেই চাপেরই ফল পেল আর্জেন্তিনা। মেসির তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে এনজ়ো দুর্দান্ত ফিনিশে সমতা ফেরান। ফলে আটলান্টার এই বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল আবারও নতুন করে জমে উঠল।

    ২-১ এগিয়ে গেল স্কালোনির দল

    আটলান্টার সেমিফাইনালে নাটকীয়তা যেন থামছেই না। ম্যাচের এক পর্যায়ে ঘাড়ে চোট পেয়ে মাঠেই বসে পড়েন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জন স্টোন্স। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুক্ষণ উদ্বেগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পান।

    এর পর চতুর্থ রেফারি অতিরিক্ত নয় মিনিট সময় দেখান। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট সময় বাকি ছিল।

    খেলা শুরু হতেই আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্তিনা। এনজ়ো ফার্নান্দেজ়ের গোলে সমতা ফেরানোর পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মেসির দল। আর সেই চাপই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

    আক্রমণের শুরুতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন লিওনেল মেসি। ডান দিক থেকে তাঁর দারুণ একটি পাস আর্জেন্তিনার আক্রমণকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং ইংল্যান্ডের ডিফেন্স চাপে পড়ে।

    এরপর ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ভেসে আসে ক্রস। সেখানে সবার আগে বলের নাগাল পেয়ে কাছ থেকে জোরালো হেডে ২-১ করেন লাউতারো মার্তিনেজ়।

    মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের বেশির ভাগ সময় এগিয়ে থাকার পরও শেষ দিকে দুই গোল হজম করে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায় তাদের।

    টানা দ্বিতীয় বার ফাইনালে আর্জেন্তিনা

    শেষমেশ ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্তিনা। ২-১ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বার ফাইনালে উঠলেন মেসিরা। শেষ ১৫ মিনিটেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। আরও একবার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড।
  • Link to this news (এই সময়)