প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, স্বপ্ন ভাঙল ইংল্যান্ডের
আজকাল | ১৫ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুরু থেকেই উত্তেজনা, লড়াই আর ফাউলে ভরা এক ম্যাচ শেষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে গেল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে গোলের চেয়ে ফাউলই ছিল বেশি আলোচনায়, তবে দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে ম্যাচ।
খেলার শুরুতেই ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও রেফারির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রথম ১০ মিনিটে কোনও দলই উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়তে পারেনি। পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই দুই দল লড়াই-সংগ্রামে ব্যস্ত ছিল। সব মিলিয়ে প্রথম ৪৫ মিনিটে ১৯টি ফাউল হয়, যার মধ্যে ১২টি করে আর্জেন্টিনা এবং ৭টি ইংল্যান্ড। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই দলের কেউই গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারে নি।
বিরতির পর ম্যাচে আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৪৭ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারে নি তারা। এরপর হুলিয়ান আলভারেজ পরপর দুটি সুযোগ পেলেও প্রথমবার জর্ডান পিকফোর্ডের দুর্দান্ত সেভে এবং দ্বিতীয়বার তাঁর শট সাইড নেটে লাগায় গোলের দেখা মেলে নি।
তবে ৫৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি করে ইংল্যান্ড। ডান প্রান্তে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে অ্যান্থনি গর্ডন ইংলিশদের এগিয়ে দেন। তিন মিনিট পর সিমিওনের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নিখুঁত ট্যাকলে নষ্ট করে দেন জেড স্পেনস, যা গোল বাঁচানোর সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা। ৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলে নিকো গঞ্জালেজকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনে লিওনেল স্কালোনির দল। ৬৯ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের শক্তিশালী হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন পিকফোর্ড।
হাইড্রেশন বিরতির পর লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা ও জুলিয়ানো সিমিওনেকে তুলে নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো দি পল ও গনসালো মন্তিয়েলকে মাঠে নামান স্কালোনি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনের জায়গায় নামেন এজরি কনসা।
৭৬ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে সমতা ফেরানোর আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা দীর্ঘ হয় নি। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান।
সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় এবং মেসির সেন্টার থেকে গোল করে ২-১ করেন লাওতারো মার্টিনেজ। পিছিয়ে পড়েও লড়াকু মানসিকতায় ম্যাচে ফিরে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল মেসির আর্জেন্টিনা।