• ‘দেখনা হ্যায়, সোচনা হ্যায়’ নয়, শুভেন্দুর মন্ত্র শুধু ‘করনা হ্যায়’
    এই সময় | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন তাঁর সরকারের মূলমন্ত্রই হবে ‘চরৈবেতি, চরৈবেতি’। অর্থাৎ, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সামনের দিকে এগিয়ে চলাই তাঁর নীতি। আর সেই নীতির প্রাথমিক শর্তই যে ‘কথা কম, কাজ বেশি’— বুধবার সেটা আরও একবার স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু। এ দিন সল্টলেকে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে হাজির হয়ে সরকার পরিচালনার কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু দেখনা হ্যায়, সোচনা হ্যায়— এতে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা করনা হ্যায়তে বিশ্বাস করি।’

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই শুভে‍ন্দু ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি সংযোগই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। তবে বিরোধী দলগুলির প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনছেন। কিন্তু সুরাহা কিছু হচ্ছে কি? এ দিন জনতার দরবার থেকে বেরিয়ে বিরোধীদের সেই কটাক্ষেরই জবাব দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ‘জনতার দরবারে মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আসেন। এর আগে যে পাঁচ–ছ’টা জনতার দরবার করেছি, তার অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট আমার অফিস থেকে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কম বেশি আশি শতাংশ অভিযোগের সমাধান বিজেপি সরকার করতে পেরেছে। আমি নিজে মনিটর করছি।’ এ প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘আমরা করনা হ্যায়তে বিশ্বাস করি।’

    ‘জনতার দরবার’–এ জমা পড়া অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা চলছে, তা আগে একাধিক বার স্পষ্ট করেছে রাজ্য সরকার। ‘অ্যাকশন’–এর উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে একটি পরিবার এসেছিল। তাঁরা বিচার পাবেন। কাউকে ছাড়া হবে না।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘নদিয়ার ওই ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় ন’জন অভিযুক্ত। কিন্ত সিবিআই তদন্ত শুরুর আগে পুলিশ চার্জশিট দিয়ে মামলাটাকে নষ্ট করেছে।’ এরপরে শুভেন্দুর সংযোজন, ‘রানাঘাটের পুলিশ সুপারের কাছে নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। প্রকৃত দোষীরা রেহাই পাবে না।’

    রাজ্যের বিনিয়োগ সম্ভাবনার সঙ্গে যে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে, তা আগে একাধিক বার বিভিন্ন মঞ্চ থেকে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর জমানায় আইন–শৃঙ্খলা প‍রিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে বলে এ দিন ঠারেঠোরে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৯ তারিখ (জুলাই) আমূলের ভূমি পুজো হবে। ভারত সরকারের সমবায়মন্ত্রী আসবেন। অগস্টে দুর্গাপুরে একটি চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছি। তারও ভূমিপুজো হবে। উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের কাজও সমানতালে চলবে।’

    মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতেই রাজ্যের আর অনেক মন্ত্রীও একই ভাবে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ শোনার তোড়জোড় শুরু করেছেন। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী রাজ্য বিজেপি দপ্তরেই ‘জনতার দরবার’ বসাতে চাইছেন। তবে বঙ্গ–বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মতে, শুভেন্দুর মতো ‘করনা হ্যায়’ নীতিতে চলতে পারলে তবেই এই কর্মসূচি সাফল্যের মুখ দেখবে। রাজ্য বিজেপির এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, ‘জনতার দরবারে আসার জন্য আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে হয় না, উনি নিজেই ফোন করে জানান কবে জনতার দরবারে আসবেন। এ রকম উদ্দীপনা সবার মধ্যে দেখা যায় না।’

  • Link to this news (এই সময়)