নয়াদিল্লি: অনশনরত শিক্ষাবিদ–পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে অনশন চালিয়ে গেলে আর হয়তো দু’দিনের বেশি বাঁচবেন না তিনি — এ কথা জানিয়ে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন আইনজীবী রমেশ কুমার সাইনি। আবেদনে অবিলম্বে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করে ওয়াংচুককে জোর করে খাওয়ানোর নির্দেশের আর্জি জানান তিনি। বিষয়টি ‘জরুরি’ বলে উল্লেখ করে বৃহস্পতিবারের মধ্যে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ। আজ, বৃহস্পতিবার হবে শুনানি।
সম্প্রতি নিট–সহ একাধিক পরীক্ষায় শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতির অভিযোগ ও বহু ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ–মঞ্চ শুরু হওয়া অনশন বুধবার ১৮ দিন পার করেছে। সোনমের ওজন প্রায় সাড়ে আট কেজি কমে গিয়েছে। রক্তচাপ এবং ব্লাডসুগারও কমেছে ব্যাপক হারে। এই অবস্থায় তাঁর প্রাণ বাঁচাতে হাইকোর্টের কাছে ‘ফোর্স ফিডিং’–এর আবেদন করেন মামলাকারী রমেশ। তাঁর বক্তব্য, ‘রাষ্ট্র এ ব্যাপারে উদাসীন। আগেও সোনমকে একজন অপরাধী, দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই দেখে এসেছে কেন্দ্র।’ কোর্টের কাছে তাঁর আবেদন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সকল নাগরিকের রয়েছে। কিন্তু চোখের সামনে একজনকে স্বেচ্ছায় অনশনে মরতে দিচ্ছে সরকার, সেই অনুমতি তো রাষ্ট্রকে আদালত দিতে পারে না।’
রমেশের বক্তব্য, ‘৫৯ বছরের সোনম ওয়াংচুককে বাঁচাতে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করে ভিটামিন ও মিনারেল–সহ লিক্যুইড ডায়েট চালু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা কার্যত আত্মহত্যায় প্ররোচনা হিসেবেই গণ্য হবে।’ আবেদন শুনে দিল্লি হাইকোর্ট জানায়, এই মুহূর্তে কেন্দ্রের তরফে কোনও প্রতিনিধি নেই। বৃহস্পতিবার তাঁদের উপস্থিতিতে হবে শুনানি। অন্য দিকে, সরকারের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্স হ্যান্ডলে লেখেন — ‘আত্মঘাতী পড়ুয়াদের বিচার চেয়ে যিনি নিজের প্রাণ দিয়ে দিতে বসেছেন, তিনি নৈঃশব্দ ছাড়া কেন্দ্রের তরফে আর কিছুই পেলেন না।’