বুদ্ধদেব বেরা, বেলপাহাড়ি
এ বার আদিবাসীদের জীবনযাত্রা–সংস্কৃতি ছুঁয়ে দেখতে পারবেন পর্যটকরা। সেই সঙ্গে স্বাদ নিতে পারবেন কুরকুটের চাটনি বা মাংস পিঠের মতো আদিবাসী খাবারেরও। দার্জিলিং বা সিকিম গিয়ে যে ভাবে সেখানকার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন পর্যটকরা, ঠিক সে ভাবেই এ বার বেলপাহাড়িতে আদিবাসী মহিলাদের পাঞ্চি শাড়ি এবং পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী গান্দো ধুতি পরে ছবি তোলার সুযোগ মিলবে। বেলপাহাড়ির বুকে গড়ে উঠতে চলেছে 'ট্রাইবাল মডেল ভিলেজ'।
মঙ্গলবার জেলার পর্যটনের উন্নয়নে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার মন্ত্রী, বিধায়ক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসনের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজিত হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক রাজেশ মাহাতো, বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ, জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর, মহকুমাশাসক অনিন্দিতা রায়চৌধুরী, পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক–সহ ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজ়মের কর্ণধার সুমিত দত্ত ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে ঝাড়গ্রামকে পর্যটনের মানচিত্রে ঢেলে সাজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেলপাহাড়ির বুকে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় একাধিক মাটির বাড়ি তৈরি করে একটি আদিবাসী গ্রামের পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। যেখানে প্রতিটি মাটির ঘরের দেওয়াল আদিবাসী গ্রামের মতোই নানা পশু-পাখি-সহ বিভিন্ন ছবি আঁকা থাকবে। থাকবে আদিবাসীদের ইতিহাস এবং জীবনযাত্রার জানার জন্য একটি মিউজ়িয়াম। আদিবাসীদের হাতে তৈরি বাবুই ঘাস, সবাই ঘাস, পাথরের নানা সামগ্রীর বিপণন কেন্দ্র। এ ছাড়াও থাকবে আদিবাসীদের ট্র্যাডিশনাল খাবারগুলির মধ্যে কুরকুটের চাটনি, কুরকুটের ডিমের ওমলেট, শালপোড়া চিকেন, বাম্বু চিকেন, মাংস পিঠে। মেনুতে রাখা হবে পান্তাভাতও।