এই সময়, নয়াদিল্লি: ‘অপারেশন সিঁদুর’–এর ধাক্কা সামলে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা ফের নিজেদের ঘর গোছাতে শুরু করেছে, সে খবর গোয়েন্দাদের কাছে এসেছিল আগেই। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট ইনটেলিজেন্স ইনপুট জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। সেই ইনপুটে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) বেশ কয়েকটি জায়গায় নতুন করে প্রশিক্ষণ শিবির শুরু করেছে লস্কর। তাদের পুরোদমে সাহায্য করছে পাক সেনা এবং গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। এই প্রশিক্ষণ শিবিরে রোজ সকালে শেখানো হচ্ছে মার্শাল আর্টস এবং গুলিচালনা। দুপুরে দীর্ঘ সময় ধরে চলছে সাঁতারের প্রশিক্ষণ। তার পরে কিছুক্ষণের বিশ্রাম। এর পরে ‘ট্রেনি জঙ্গি’দের একত্র করে হাতেকলমে শেখানো হচ্ছে বিস্ফোরক বানানোর কৌশল।
তবে যে বিষয়টি একেবারে নতুন, তা হলো প্রথাগত এই সব প্রশিক্ষণের বাইরে গিয়ে জঙ্গিদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে এআই-এরও। এর আগে এমন প্রশিক্ষণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, সূত্রের দাবি, গোয়েন্দাদের কাছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত খবর এসেছে। ‘পিওকে’র গোপন ডেরায় এই জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা জঙ্গিদেরও ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে৷ লস্করের রাজনৈতিক শাখা ‘পাকিস্তান মার্কাজ়ি মুসলিম লিগ’-এর (পিএমএমএল) তত্ত্বাবধানে এই ট্রেনিং ক্যাম্প চলছে।
লস্করের জঙ্গি তৈরির নতুন কৌশল সামনে আসার পরেই গোয়েন্দারা দু’টি বিষয়ে আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ এক, মার্শাল আর্টসের ট্রেনিং এবং দুই, এআই-এর ব্যবহার। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, শুধুমাত্র অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ দিয়েই এত দিন জঙ্গিদের এ পারে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু নজরদারি কড়া হয়েছে বুঝেই তাদের এ বার সবরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট’ সিচুয়েশনের কথা মাথায় রেখেই জঙ্গিদের শারীরিত সক্ষমতা বাড়ানোর উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। জঙ্গিদের মার্শাল আর্টস স্পেশ্যালিস্ট করে তোলা হচ্ছে বলে তারা জেনেছেন। ফিটনেসে তাদের সেনা কম্যান্ডোদের সমতুল করে তুলতেই সাঁতারের পাশাপাশি এই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
সূত্রের দাবি, ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে একটি ভিডিয়ো ক্লিপ এসেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে পিওকে-তে পরিচালিত লস্করের প্রশিক্ষণ শিবিরে এলইটি কম্যান্ডার এবং ভারতে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা জঙ্গি রানা মহম্মদ আশফাক নিজে তরুণ জঙ্গিদের সাঁতারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে৷ এই ভিডিয়ো ক্লিপটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিশ্লেষণ করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷
যে ভাবে বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা এবং গুপ্তচর এজেন্সি এআই-এর জোরাদার ব্যবহার শুরু করেছে, তাতে পৃথিবীর নানা প্রান্তে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি বেশ বিপাকে পড়েছে। ব্যতিক্রমী নয় লস্কর, জৈশ-ই-মহম্মদের মতো পাক জঙ্গি সংগঠনগুলিও। ভারতের প্রযুক্তির সামনে তাদের রীতিমতো নাজেহাল দেখাচ্ছে। সে কারণেই এআই-এর প্রশিক্ষণ দেওয়ার এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।