স্বাস্থ্যের চূড়ান্ত অবনতি। শারীরিক সমস্ত প্যারামিটারই দিচ্ছে বিপদ সঙ্কেত। অনশনরত শিক্ষাবিদ–পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে উদ্বিগ্ন সকলেই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে অনশন চালিয়ে গেলে আর হয়তো দু’দিনের বেশি বাঁচবেন না তিনি — এ কথা জানিয়ে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। তবুও নিজের অবস্থানে অনড় সোনম ওয়াংচুক।
তবে অনির্দিষ্টকালের অনশনের ১৯তম দিনে পৌঁছে নিজের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা স্বীকার করলেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। বরং আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণভাবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
CJP পার্টির জারি করা সর্বশেষ চিকিৎসা বুলেটিন অনুযায়ী, ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুক ‘খুবই দুর্বল’ এবং ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর রক্তচাপ ছিল ১০৫/৭৬ mmHg, রক্তে শর্করার পরিমাণ ৮০ mg/dL এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৭%। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি মানসিক ভাবে সচেতন ও সজাগ থাকলেও তাঁর সবসময়ে পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তাঁর ওজন গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪০০ গ্রাম কমে ৫৭.১৫ কেজিতে নেমে গিয়েছে। অনশন শুরু করার পরে প্রায় ৮.৯ কেজি কমেছে সোনমের।
দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন ওয়াংচুক। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়, বিশেষ করে NEET পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি নেই। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা, পরীক্ষা পরিচালনায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবি তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার অনশনের ১৯তম দিনে ওয়াংচুক বলেন, ‘আমি খুব ভালো অবস্থায় নেই, তবে এতটাও খারাপ নই। এখনও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি।’ চিকিৎসকদের পরামর্শ সত্ত্বেও তিনি অনশন ভাঙতে রাজি হননি। তাঁর কথায়, আন্দোলনের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি লড়াই থেকে পিছিয়ে আসবেন না।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং রক্তচাপও উদ্বেগজনকভাবে নেমে গিয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক তাই ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
আগামী ২০ জুলাই শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। দেশবাসীর উদ্দেশে ওয়াংচুক ওই সংসদ অভিযানে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তবে ‘চলো সংসদ’ এই অভিযান সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে হবে বলে দাবি তাঁর। অনশনরত সমাজকর্মী ওয়াংচুকের কথায়, এটি কোনও ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার দাবি। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে অনশন ভাঙতে বলার পরিবর্তে, অনুগ্রহ করে ২০ জুলাই আমার সঙ্গে সংসদের অভিমুখে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় যোগ দিন। অন্য কারও মধ্যে নায়ক খোঁজার বদলে প্রত্যেক নাগরিকের নিজের দায়িত্ব পালন করা উচিত।’
ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিরোধী নেতারা সরব হয়েছেন। একই সঙ্গে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির কথা উল্লেখ করে অনশন প্রত্যাহারের আবেদনও জানিয়েছেন। চলচ্চিত্র জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। এ দিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যন্তর মন্তরে একদিনের গণ-অনশন কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও অর্থবহ আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।