• রাজকীয় ব্যবস্থা, ইসকনের রথ ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে
    এই সময় | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • মহম্মদ মহসিন, শ্যামপুর

    একটাই রথে নয়, জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা আলাদা আলাদা রথে চড়ে যাবেন মাসির বাড়ি। হাওড়া গ্রামীণের শ্যামপুর ছাড়া এই ব্যবস্থা রয়েছে শুধু মায়াপুরে, কলকাতার মিন্টো পার্কে। এ ছাড়া এমন স্পেশাল ট্রিটমেন্ট সচরাচর আর কোথাও দেখা যায় না বলে উদ্যোক্তাদের মত। তবে হাওড়া জেলার মধ্যে এই ধরনের রথ আর কোথাও হয়নি বলে জানিয়েছেন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান। এই রথ ঘিরে ন’দিন ধরে চলে রাজকীয় ব্যবস্থাপনা!

    শ্যামপুর থানার রাধানগর ইস্কন মন্দিরের উদ্যোগে এই বিশেষ রথযাত্রা উৎসব পালিত হয় প্রতি বছর। প্রায় ২০ বছর হয়ে গেল এই পরম্পরা চলে আসছে। এই রথ ঘিরে প্রায় লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার এই বছর যে সব রথযাত্রা কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে, তার মধ্যে এই রাধানগর ইস্কন মন্দির রয়েছে।

    এই রথ সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাধানগর ইস্কন মন্দিরের ব্রহ্মচারী শ্রীজীব দাস জানান, রাধানগর এলাকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি প্রয়াত সুবোধ মণ্ডলের দেওয়া প্রায় আট বিঘে জায়গার উপরে গড়ে উঠেছে ইস্কনের মন্দির। রাধানগর ইস্কন মন্দিরের কাছে এই তিনটি রথ থাকলেও, রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে শ্যামপুর ফুটবল মাঠে। এই অনুষ্ঠানে মায়াপুর ও কলকাতা ইস্কন মন্দির থেকে বহু বিদগ্ধ মানুষ উপস্থিত থাকেন। উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন অনুপ কাপড়ি বলেন, ‘রাধানগরে জায়গা স্বল্প থাকায়, রথের আগের দিন রাধানগর ইস্কন মন্দির থেকে শোভাযাত্রা সহকারে এই তিনটি রথ নিয়ে শ্যামপুর ফুটবল মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ম মেনে রথের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তাকে বলা হয় ‘অধিবাস’। রথের আগের দিন শ্যামপুর ফুটবল মাঠে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে ভোগ বিতরণ করা হয়।

    রথের দিন শ্যামপুর ফুটবল মাঠ থেকে শোভাযাত্রা সহকারে তিনটি রথ নিয়ে আসা হয় গড়চুমুক–শ্যামপুর রাস্তার পাশে মরশাল গ্রামে। সেখানে পর পর তিনটি রথ রাখা হয়। তার পাশে একটি মণ্ডপে রথের মধ্যে আবার জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাকে রাখা হয়। এই মণ্ডপেই ফিরতি রথ পর্যন্ত নানা আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

    এই রথযাত্রার অনুষ্ঠানে শ্যামপুরের বিধায়ক হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘এত ভালো রথের অনুষ্ঠান গ্রামীণ এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না।’

  • Link to this news (এই সময়)