• জগন্নাথ দেবের নাকি স্বয়ং মিহিদানা খাওয়ার শখ হয়েছিল! মাহেশের ৫৬ ভোগে কী কী থাকে, জানেন?
    News18 বাংলা | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • হুগলির মাহেশের রথযাত্রা বাংলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথ উৎসব। প্রায় ৬৩০ বছরেরও বেশি পুরনো এই রথযাত্রা জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর আষাঢ় মাসে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে মাহেশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই রথযাত্রা বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    প্রায় ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরী থেকে জগন্নাথদেবের আরাধনার প্রথা মাহেশে নিয়ে আসেন। কথিত আছে, পুরীতে ভগবান জগন্নাথের স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর তিনি মাহেশে ফিরে এসে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই মাহেশে রথযাত্রা শুরু হয়।

    হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ দেবের ভোগ অত্যন্ত বিখ্যাত। রথের দিন ও উল্টোরথের মধ্যবর্তী সময়ে এখানে ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হয়।

    সুগন্ধী পোলাও, খিচুড়ি, ধোঁকার ডালনা, পনির, আলুর দম এবং ক্ষীরের পায়েস৷

    কিংবদন্তি অনুযায়ী, জগন্নাথ দেবের নাকি স্বয়ং বাংলার মিহিদানা খাওয়ার শখ হয়েছিল। তাই আজও স্থানীয় কিছু প্রাচীন মিষ্টির দোকানে তৈরি ঘুটকে সন্দেশ ও মিহিদানা মহাপ্রভুকে পরম ভক্তিতে নিবেদন করা হয়।

    সম্বৎসর মাহেশে জগন্নাথদেবকে খিচুড়ি-ভোগ, সাদা ভোগ, ভাজা, শাক, অড়হর ডাল, আলুর দম, চাটনি, পায়েস— এই সব দেওয়া হয়। সোজারথ, উল্টোরথ বা বিশেষ দিনে এর সঙ্গে থাকে পোলাও ভোগ, ধোঁকা, ছানার ডালনা, মালপোয়া ইত্যাদি। তবে জগন্নাথের ভোগে সাধারণ নুন থাকে না। বদলে সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করা হয়। শেষ পাতে মালপোয়া জগন্নাথের অতি প্রিয়।

    রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে জিটি রোডের দু’ধারে মেলা বসে। এক সময় গ্রামগঞ্জ থেকে কাতারে কাতারে মানুষ মাহেশে রথের মেলা থেকে কেনাকাটা করতে আসেন। কালের নিয়মে এখন সেই সংখ্যা অনেক কম। কমেছে মেলার পরিধি, জৌলুসও। অবশ্য জগন্নাথ মন্দির থেকে মাসির বাড়ি পর্যন্ত মেলায় দোকানের পাশাপাশি নাগরদোলা থেকে শুরু করে ছোটদের জন্য নানা খেলার আয়োজন থাকে।

    সোজা রথের দিন রথে চাপিয়ে তিন বিগ্রহকে সাড়ম্বরে গুন্ডিচাবাটীতে নিয়ে যাওয়া হয়। মাহেশে গুণ্ডিচাবাটীকে বলা হয় কুঞ্জবাটী বা ‘মাসির বাড়ি’। তবে, ‘মাসি’ অর্থে কিন্তু মায়ের বোন নন, জগন্নাথ আসলে তাঁর সখী পৌর্ণমাসির কুঞ্জে যান। পৌর্ণমাসি থেকেই মাসি কথাটি এসেছে। অসংখ্য ভক্ত খালি পায়ে রশি টেনে রথকে জিটি রোড ধরে মাসির বাড়িতে পৌঁছে দেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)