নদিয়ার মায়াপুরে ইসকনের রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি প্রায় পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্য ও ভক্তির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। এই রথযাত্রার ইতিহাস ও ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে পুরীর জগন্নাথদেব এবং মায়াপুর সংলগ্ন রাজাপুরের ৫০০ বছরের প্রাচীন জগন্নাথ মন্দিরের সঙ্গে।
লোককথা অনুযায়ী, জগদীশ গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক ভক্ত নিয়মিত হেঁটে পুরীতে জগন্নাথদেবের দর্শনে যেতেন। বার্ধক্যে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর তিনি আর যেতে না পারলে স্বপ্নে জগন্নাথদেব তাঁকে রাজাপুরে মন্দির প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। সেই থেকেই রাজাপুরে জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে ইসকনের উদ্যোগে এই জগন্নাথদেবের রথযাত্রাকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলা হয়।
আরও পড়ুন : জগন্নাথ দেবের নাকি স্বয়ং বাংলার মিহিদানা খাওয়ার শখ হয়েছিল, শেষ পাতে ক্ষীরের পায়েস! মাহেশের ৫৬ ভোগে কী কী থাকে জানেন?
প্রতি বছর পুরীর ঐতিহ্য মেনে ইসকন মায়াপুরের রথযাত্রার সূচনা হয় ‘পান্ডু বিজয়’ বা ‘পাহান্ডি বিজয়’ অনুষ্ঠানের মাধ্যম। এই পবিত্র রীতিতে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রা দেবীকে মন্দির থেকে সুসজ্জিত রথে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাজাপুরের জগন্নাথ মন্দির থেকে তিনটি সুসজ্জিত রথে (জগন্নাথ দেবের নন্দীঘোষ, বলরামের তালধ্বজা ও শুভদ্রার দর্পদলন) প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রাকে নিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রা বের হয়। গন্তব্য মায়াপুরের চন্দ্রোদয় মন্দির সংলগ্ন গুণ্ডিচা মন্দির, যা ‘মাসির বাড়ি’ নামে পরিচিত। অস্থায়ীভাবে এটি তৈরি করা হয়। সেখানে সাত দিন অবস্থানের পর উল্টোরথের দিন দেবতারা পুনরায় রাজাপুরে ফিরে আসেন।
প্রতিদিন জগন্নাথদেবকে ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হয়।রথযাত্রাকে ঘিরে মায়াপুরে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে। সব মিলিয়ে মায়াপুর ইসকনের এই উৎসব আজ বিশ্বজনীন ভক্তি, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক।