মাহেশের রথের বিশেষত্ব কী জানেন? অধিকারী আর বসু পরিবারের যৌথ সিদ্ধান্তে বদলে ফেলা হয় ১৪১ বছর আগে
News18 বাংলা | ১৬ জুলাই ২০২৬
পুরীর মতো কাঠের রথ নয়। জগন্নাথ, বলরাম বা শুভদ্রার মতো আলাদা আলাদা রথ নয়। হুগলির মাহেশের রথ একটাই। এখানে রথ হল লোহার। ১৪১ বছরের পুরানো সেই রথই এখনও পুজো হয়ে আসছে হুগলি জেলার মাহেশে। মাহেশের এই রথযাত্রা উৎসব ৬৩০ বছরের পুরানো। সম্ভবত, বঙ্গের সবচেয়ে পুরনো রথযাত্রার উৎসব৷
প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার এই রথ আগে কাঠের ছিল। যদিও দীর্ঘ দিন ধরে সেই রথ পুজিত হতে হতে কাঠের সেই রথে ক্ষয় ধরতে শুরু করে। শ্যামবাজারের বসু পরিবারের সঙ্গে মাহেশের অধিকারী পরিবারের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। তাঁরা জগন্নাথ মন্দিরের সেবক। তাঁরা ইচ্ছাপ্রকাশ করেন নতুন রথ তৈরি করে দেবেন। ১৪১ বছর আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কাঠের রথ বদলে ফেলা হবে। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কাঠের বদলে রথ হবে লোহার। সেই রথ এখনও যা পুজিত হয়ে আসছে৷
১৪১ বছরের এই রথ সেই সময় তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ২০ হাজার টাকা। মাহেশের এই রথ পরিচিত নীলাচল নামে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু একাধিকবার এই রথ যাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি মাহেশের নাম দেন নব নীলাচল। সেই অনুযায়ী মাহেশের রথ পরিচিত নীলাচল রথ নামে।
মন্দিরের প্রধান সেবায়েত সৌমেন অধিকারী জানিয়েছেন, “ঐতিহাসিক এই রথ যাত্রায় রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব অবধি যোগদান করেছিলেন। এই রথের প্রতিটি অংশে ইতিহাস জড়িয়ে আছে।” এই রথে প্রতি বছর জগন্নাথ, বলরাম, শুভ্রদাকে বসানোর পরে একটি বিশেষ পুজো করা হয়। সেই পুজো দামোদর পুজো নামে খ্যাত।
প্রায় ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরী থেকে জগন্নাথদেবের আরাধনার প্রথা মাহেশে নিয়ে আসেন। কথিত আছে, পুরীতে ভগবান জগন্নাথের স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর তিনি মাহেশে ফিরে এসে জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই মাহেশে রথযাত্রা শুরু হয়। হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ দেবের ভোগ অত্যন্ত বিখ্যাত। রথের দিন ও উল্টোরথের মধ্যবর্তী সময়ে এখানে ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হয়।