• রাজ্যে দলবদলুদের শামিল করাতে চাইছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা
    বর্তমান | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দলবদল প্রশ্নে কার্যত শুভেন্দু অধিকারীর লাইনেই সায় দিতে চায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কারণ তারা মনে করছে যে, ভিন দল থেকে বিজেপিতে যোগদান না করালে নিজেদের সাংগঠনিক আস্ফালন বোঝানো একপ্রকার অসম্ভব। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক মহল মনে করতে পারে যে, বিজেপির অন্দরেই সংগঠনগত কোনো বড়োসড়ো সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেইমতোই বঙ্গ বিজেপিতে দলবদলুদের জন্য দরজা খোলার পক্ষপাতী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বড়ো অংশই। বিজেপির শীর্ষ সূত্রে একথা জানানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এসংক্রান্ত বিষয়কে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। যদিও একইসঙ্গে জানা যাচ্ছে যে, এখনই এব্যাপারে বঙ্গ বিজেপির উদ্দেশে এমনকি মৌখিক কোনো নির্দেশিকাও জারি করবে না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সবটাই থাকবে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডের হাতে। 

    রাজ্যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। প্রথমবার বাংলায় বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে। সেইসময় থেকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য লাগাতার দাবি করে এসেছেন যে, দলে তৃণমূল কিংবা কোনো পার্টি থেকে কাউকে যোগদান করানো হবে না। শমীকবাবু একথা বললেও তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়ক এবং সাংসদদের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কখনও কলকাতায়, কখনও দিল্লিতে এসে। এব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হয়েছে।  এব্যাপারে শমীকবাবু দাবি করেছেন যে, তৃণমূলের বিদ্রোহে বিজেপির কোনো হাত আছে, এমন ‘পারসেপশন’ জনমানসে তৈরি হলে তা গেরুয়া শিবিরকেই দূর করতে হবে। কিন্তু এতকিছুর পরেও রাজ্যসভায় তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক আনুষ্ঠানিকভাবেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের যোগদানের দিনই রাজ্যসভার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এর ফলে খোদ রাজ্য বিজেপি সভাপতির বিভিন্ন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এমনই দাবি দলীয় সূত্রে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি বড়ো অংশের শুভেন্দু-লাইনের পক্ষে থাকার বার্তা নিঃসন্দেহে লক্ষণীয়।
  • Link to this news (বর্তমান)