দেশের বৃহত্তম পরমাণু কেন্দ্রের তথ্য ফাঁস, ১৯ হাজার ফাইল ডার্ক ওয়েবে
বর্তমান | ১৬ জুলাই ২০২৬
বেঙ্গালুরু: দেশের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ঘিরে আশঙ্কার সিঁদুরে মেঘ! তামিলনাড়ুর কুদানকুলামে অবস্থিত এই নিউক্লিয়ার প্লান্ট সংক্রান্ত হাজার হাজার গোপন ফাইল ডার্ক ওয়েবে পোস্ট করে দিয়েছে র্যানসমওয়্যার গ্রুপ ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’। ফাঁস হওয়া ফাইলগুলিতে রয়েছে পরমাণুকেন্দ্রটির বিভিন্ন অংশের ব্লুপ্রিন্ট, যন্ত্রাংশের নকশা, সাপ্লায়ার ও বিমা সংক্রান্ত বহু গোপন তথ্য। ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর দাবি, এই সমস্ত তথ্য হাতানো হয়েছে শিল্পপতি অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের একটি সার্ভার হ্যাক করে। তারাই এই নিউক্লিয়ার প্লান্টের অন্যতম কনট্রাক্টর। রিলায়েন্সের মোট ৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ফাইল ফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুদানকুলাম সংক্রান্ত সবচেয়ে ‘সংবেদনশীল’ ১৯ হাজার ফাইল। এই খবর প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে ভারতের শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘সার্ট-ইন’।
ভারতের সাতটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সর্ববৃহৎ হল কুদানকুলাম। দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিধি আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে মোদি সরকারের। তবে তার মধ্যেই এই রিপোর্টে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওই সব ফাইল ‘আংশিক ফাঁস’ হয়েছে। ডেটা সেন্টার সার্ভিস প্রদানকারী থার্ড পার্টি ‘ইয়োটা’ পরিচালিত একটি সার্ভার থেকেই তথ্য ফাঁস হয়েছে। গোটা ঘটনাটি সরকারকে জানানো হয়েছে।
‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’-এর সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রোথ বলেছেন, তথ্য ফাঁসের ফলে পরমাণুকেন্দ্রটির নিরাপত্তা ‘গুরুতর ঝুঁকি’র মুখে পড়তে পারে। ঠিক কী তথ্য ফাঁস হয়েছে, রিলায়েন্স গ্রুপ তা খোলসা করেনি। ২০১৮ সালে কুদানকুলামের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের নকশা ও পরিকাঠামো তৈরির বরাত পেয়েছিল রিলায়েন্স ইনফাস্ট্রাকচার। এই দু’টি ইউনিট ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। মোট ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে হাতে আসা নথির ভিত্তিতে রয়টার্স-এর দাবি, তথ্যগুলি ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়কার। ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর ওয়েবসাইটে যেসব ফাইল ফাঁস হয়েছে, তার মধ্যে কুদানকুলামের পরমাণু চুক্তির মূল সিস্টেমগুলি সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। এই কেন্দ্রের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর সরবরাহ করেছিল রাশিয়ার সরকারি সংস্থা রোসাটম। তবে ফাঁস হওয়া ফাইলে রয়েছে নির্মীয়মাণ তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেমের তথাকথিত নকশা, ‘কমন কন্ট্রোল রুম’-এর সম্পূর্ণ ফ্লোর লেআউট। ফাইলগুলিতে সরবরাহকারীদের প্রস্তাব, অনুমোদিত সরবরাহকারীদের তালিকা এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন ও রিলায়েন্সের যৌথ পরিদর্শন সংক্রান্ত ২০২৪ সালের একটি সভার কার্যবিবরণী এবং যন্ত্রপাতির ছবিও রয়েছে। অন্য একটি নথিতে আবার রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন বিমা পলিসি সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। সেই নথি মোতাবেক, তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট সন্ত্রাসবাদী হামলার শিকার হলে রিলায়েন্স গোষ্ঠী ১১ কোটি ২০ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে।
‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ এর আগে নাইকি ও টাটা গোষ্ঠীকে নিশানা বানিয়েছিল। এরা সাধারণত বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার ডেটা চুরি করে। এরপর সংস্থাগুলি দাবিমতো অর্থ দিতে অস্বীকার করলে চোরাই তথ্য নিজেদের ওয়েবসাইটে ফাঁস করে দেয়। ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর ওয়েবসাইটের নাগাল পাওয়া সম্ভব একমাত্র স্পেশালাইজড ব্রাউজারের মাধ্যমে। রিলায়েন্স তথ্য ফাঁস নিয়ে রয়টার্স-এর প্রশ্নের জবাব দেয়নি র্যানসমওয়্যার গ্রুপ। প্রতিক্রিয়া মেলেনি পরমাণু বিদ্যুৎ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান রাজেশ বীররাঘবন, সার্ট-ইন ও ভারত সরকারেরও।