সংবাদদাতা, বহরমপুর: আমন চাষ আর পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে খেতমজুরের দৈনিক পারিশ্রমিক লাফিয়ে বাড়ছে। এক সপ্তাহে ধান চাষে দৈনিক মজুরি বেড়ে ৫০০ টাকায় ঠেকেছে। আরও বাড়ার সম্ভাবনার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এদিকে পাটের আঁশ ছাড়াতে দৈনিক মজুরি ছ’শো টাকায় পৌঁছেছে। বেশি মজুরি দিয়েও প্রয়োজন মত খেতমজুর মিলছে না বলে দাবি চাষিদের। ধান ও পাট চাষিদের দাবি, চাষে খেতমজুরি যেভাবে বাড়ছে তাতে লাভের একটা মোটা অংশ চলে যাচ্ছে মজুরি মেটাতে। ফলে চাষ থেকে আয়ের পরিমাণ কমছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের মূল্যবৃদ্ধি ও কালোবাজারি নিয়ে চাষিরা সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন। খেতমজুরের পারিশ্রমিক ক্রমাগত ঊর্ধ্বগামী হওয়ায় চাষিদের উদ্বেগ বাড়ছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় আমন ধানের চাষ এবং পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ প্রায় একইসঙ্গে শুরু হয়। শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে সমস্ত চাষি একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ায় খেতমজুরের চাহিদা হুহু করে বাড়তে শুরু করে। এই সময় জেলার খেতমজুরের চাহিদা মেটায় পার্শ্ববর্তী জেলা বীরভূম ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খন্ড। বীরভূম ও খাড়খন্ড থেকে খেতমজুররা ভোরে গাড়ি ভাড়া করে জেলায় ঢোকে। কাজ শেষে আবার সেই গাড়িতেই ফিরে যায়। এবার আমন চাষ শুরু হয়েছিল সাড়ে তিনশো টাকা দৈনিক মজুরিতে। পরে সেটা হয় চারশো। এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচশো টাকায়। তাতেও ভোরে রাজ্য সড়কে দাঁড়িয়ে হাঁকাহাঁকি, দামাদামি করেই খেতমজুরদের ধরতে হয়। বড়ঞা ব্লকের ধান চাষি নিত্যগোপাল ঘোষ বলেন, বিঘা প্রতি ধান পুঁততে পাঁচজন দিনমজুর লাগে। আগে চারজনে কাজ হত। মজুরিও কম ছিল। এখন এক বিঘা জমিতে ধান পুঁততে আড়াই হাজার টাকা মজুরি খাতে ব্যয় হয়। বিকাশ দাস বলেন, রাসায়নিক সারের দাম বেড়েছে। সারে কালোবাজারি চলছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় চাষের খরচা বেড়েছে। সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারলে ধান চাষ করে লাভ হবেনা। মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। এবার পাটে ফলন ভালো। পাটের বাজারও ভালো। তবে জলের অভাব চাষিদের সমস্যায় ফেলেছে। ভালো দামের আশায় চাষিয়ে জল ধরে পাট পচিয়েছেন। চাষিদের দাবি, প্রতি প্রতি জমির পাটের আঁশ ছেড়াতে কমপক্ষ্যে আটজন মজুর দরকার। এছাড়া জলের সমস্যার জন্য পাটের গাদা মাথায় করে বইতে আরও দুজন মজুর লাগছে এবার। হরিহরপাড়ার পাট চাষি জসিমুদ্দিন শেখ বলেন, এক বিঘা জমির পাট কেটে পচানো থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়াতে সাড়ে সাত হাজার থেকে আট হাজার টাকা খরচা পড়ছে। মজুরির খরচ কমলে লাভের পরিমাণ বাড়বে। যদিও এবার পাট চাষে এবার ব্যপক লাভ করছেন চাষিরা। আমন ধান পোঁতার কাজ চলছে। -নিজস্ব চিত্র