সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ঝালদা ও মানবাজার: ঝাড়খণ্ড থেকে পুরুলিয়া জেলায় অবৈধ কয়লা পাচার রুখতে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ জোরদার অভিযান চালাচ্ছে। গত ১৩ ও ১৪ জুলাই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় ১.৯ টন অবৈধ কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি যানবাহন এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। পাশাপাশি বুধবার বান্দোয়ান থানার পুলিশ ও বিএল অ্যান্ড এলআরওর যৌথ উদ্যোগে ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হয়, যাতে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো বেআইনি কয়লা, বালি বা পাথর জেলায় প্রবেশ করতে না পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গড় জয়পুর রেলওয়ে স্টেশনে জিআরপি ও আরপিএফের যৌথ অভিযানে ৪০টি বস্তায় ভরা প্রায় ১ হাজার কেজি কাঁচাকয়লা ও কয়লার গুঁড়ো উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ট্রলি ভ্যান বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঝাড়খণ্ড থেকে আনা কয়লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হচ্ছিল। এরপর বড়গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় ঝাড়খণ্ড সীমান্ত থেকে মোটর সাইকেলে কয়লা আনার সময় পুলিশ ধাওয়া করলে চালক পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে মোটর সাইকেল সহ ১২টি বস্তায় প্রায় ৬০০ কেজি কয়লা উদ্ধার করা হয়। চালক পালিয়ে গেলেও কয়লা ও মোটর সাইকেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুরুলিয়া শহরের রাঁচি রোড এলাকায় পুলিশি টহলদারির সময় একটি নম্বরবিহীন বৈদ্যুতিক মালবাহী গাড়ি থেকে ১০টি বস্তায় প্রায় ৩০০ কেজি পোড়া কয়লা উদ্ধার হয় বলে দাবি পুলিশের। বৈধ ট্রানজিট পারমিট, চালান, ইনভয়েস বা রয়্যালটি সংক্রান্ত কোনো নথি দেখাতে না পারায় গাড়ির চালক ও কয়লার মালিককে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়েছে।
বুধবার বান্দোয়ান থানার পুলিশ ও বিএল অ্যান্ড এলআরওর যৌথ অভিযানেও ঝাড়খণ্ড সীমান্তে কড়া নজরদারি চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, অবৈধ কয়লা, বালি ও পাথর পরিবহণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও নাকা চেকিং আরও বাড়ানো হবে। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ খনিজ পাচারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।