• নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে প্রার্থী দেবে বিজেপি? সিদ্ধান্তের ভার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের
    বর্তমান | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে বিজেপি প্রার্থী দেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই শেষ সিদ্ধান্ত নেবে। একইসঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা দলীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী কোনো আচরণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় বিধায়ক, সাংগঠনিক নেতা স্তরের তিন থেকে চারজনকে নিয়ে একটি কোর কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী দিনে এই কমিটিই দল ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার কাজ করবে। মঙ্গলবার কল্যাণী, রানাঘাট ও কৃষ্ণনগরে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে এই বার্তাগুলিই দেন দলের রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য।

    রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, ‘বৈঠক অত্যন্ত ভালো হয়েছে। সাংগঠনিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে চলার কথা তিনি বলেছেন।’

    দলীয় সূত্রের দাবি, প্রতিটি বিধানসভায় তিন থেকে চার সদস্যের একটি কোর কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটিই সংশ্লিষ্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে শমিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ জন্য তিনি এক থেকে দু’ দিন সময় চেয়েছেন। তারপর প্রার্থী দেওয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জেলা নেতৃত্বকে জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি দলীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ যুক্ত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ সম্প্রতি ডিম থেরাপির ঘটনায় বিজেপি কার্যকর্তাদের যুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।

    নদীয়ার এক বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘জেলা পরিষদের বিষয়টি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভাবনাচিন্তা করছে। প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

    উল্লেখ্য, নদীয়া জেলা পরিষদের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে রাজ্য সভাপতির বার্তার দিকেই নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। সম্প্রতি জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মিরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন তৃণমূল কংগ্রেসেরই সদস্যদের একাংশ। তৃণমূলের ৩১ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে নতুন সভাধিপতি কে হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

    এর মধ্যেই সম্প্রতি রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, সভাধিপতি পদে বিজেপি প্রার্থী দেবে। তাঁর দাবি, বিজেপির একজন ওবিসি সদস্য রয়েছেন, যাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে। যদিও জেলা পরিষদে বিজেপির সদস্য সংখ্যা মাত্র ছয়। সেখানে তৃণমূলের সদস্য ৪৬ জন। ফলে বিজেপি প্রার্থীকে জিততে গেলে তৃণমূলের একাংশের সমর্থন লাগবে। সেই কারণেই জগন্নাথ সরকার দুর্নীতির বিরোধী তৃণমূল সদস্যদের কাছে ‘বিবেকের ভোট’-এর আবেদন জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী দেয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
  • Link to this news (বর্তমান)