• ব্যাংক প্রতারণা: মানস রায় গ্রেপ্তার হতেই হাওড়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাসিন্দারা
    বর্তমান | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রতারণার অভিযোগে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) হাতে ব্যবসায়ী মানস রায় ও তাঁর দুই সহযোগী তথা আত্মীয় তাপস রায় এবং তন্ময় রায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ল ডুমুরজলার বাসিন্দাদের একাংশ। বুধবার সকাল থেকেই অভিযুক্তের নন্দলাল চ্যাটার্জি লেনের ফ্ল্যাটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান বহু মানুষ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি, বাড়ি ও বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষকে প্রতারণা করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতারণার পাশাপাশি জালিয়াতি করে একাধিক মানুষের জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মানস রায়ের বিরুদ্ধে। অমল মিশ্র চতুর্বেদী নামে এক বাসিন্দার অভিযোগ, তাঁর জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করা হয়েছে। শুধু তিনি নন, এভাবে অনেককে ঠকিয়েছেন মানস। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গেও বিপুল অঙ্কের আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্তের নাম জড়িয়েছে। আইনজীবী তমোনাথ রামচন্দ্রের দাবি, হাওড়ার বিভিন্ন থানায় মানস রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ থেকে ৩৫টি প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। হাওড়া আদালত ও কলকাতা হাইকোর্টেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। পাশাপাশি পকসো আইনে মামলা এবং ডুমুরজলায় একটি হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগও তোলেন তমোনাথ।

    প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার গভীর রাতে সিট ডুমুরজলায় মানস রায়ের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। তল্লাশিতে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। 

    অন্যদিকে, অভিযুক্তের বাবা দেবকুমার রায় ছেলের ব্যবসা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ‘গত পাঁচ বছর ধরে আমি সস্ত্রীক ডুমুরজলায় অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকি। ছেলে আমাদের সঙ্গে থাকে না। শুনেছি, পুলিশ মানসকে ধরে নিয়ে গিয়েছে। আলাদা থাকত বলে মাঝেমধ্যে শুধু দেখা হত। কী ব্যবসা করত বা কীভাবে চলত, সে বিষয়ে আমাদের কিছুই বলত না।’
  • Link to this news (বর্তমান)