• ডিম থেরাপি-বিক্ষোভ এড়াতে কড়া প্রহরা বিধাননগর আদালতে, কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন অভিষেক, ফের রক্ষাকবচের আরজি হাইকোর্টে
    বর্তমান | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য তলব হলেও পরপর দু’বার তিনি গরহাজির ছিলেন। অবশেষে বুধবার সল্টলেকে এসে বিধাননগর মহকুমা আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিম থেরাপি এবং বিক্ষোভ এড়াতে আদালত চত্বরে ঢাল হাতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নামানো হয়েছিল র‌্যাফও। নিরাপদেই অভিষেক আদালতে ঢুকেছেন। নমুনা দিয়ে বেরিয়েও গিয়েছেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই। তবে এদিনই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা থেকে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। 

    ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সমাজকর্মী রাজীব সরকার। এদিন রাজীববাবুও হাজির হয়েছিলেন। ওই মামলায় পরপর দু’বার অভিষেক হাজির না হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্ট রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার কথা বলেছিল। তারপরই ১৫ জুলাই তাঁকে নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। তবে, তাঁর উপর যাতে ডিম ছোড়া বা হামলা না হয়, সে ব্যাপারে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছিল। সেই বিষয়টি সুরক্ষিত করার জন্য হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল।

    এদিন ডিসি, দুই এসিপির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে আদালত চত্বর মুড়ে ফেলা হয়। সরকার পক্ষের স্পেশ্যাল আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘অভিষেক বিচারকের কাছে হাজিরা দেওয়ার পর কণ্ঠস্বরের নমুনা দেন। সিআইডির অফিসাররাও ছিলেন।’ রাজীববাবুর আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, ‘এর মধ্যে আমার মক্কেলকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়েছে।’ 

    এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা থেকে রক্ষাকবচ চেয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। বুধবার তাঁর আইনজীবী কিশোর দত্ত বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা রুজু করে বলেন, ‘আমার মক্কেলকে সমস্ত মামলায় রক্ষাকবচ দিতে হবে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোথায় কতগুলি মামলা রয়েছে, তার সঠিক তথ্য আমাদের জানা নেই। তাঁর লোকসভা এলাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সবই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। তাই সব মামলা থেকে রক্ষাকবচ দিতে হবে।’ এরপর অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, ‘যতগুলি মামলা দায়ের হয়েছে, প্রতিটি নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে। প্রয়োজনে সে বিষয়ে আমরা আদালতকে জানাতে পারব।’ এরপরই বিচারপতি নির্দেশ দেন, পরবর্তী শুনানির দিন রাজ্যকে রিপোর্ট পেশ করে জানাতে হবে, কোথায় কতগুলি মামলা রয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)