অটিজমে আক্রান্ত সন্তান: ২ শিক্ষিকার বাড়ির কাছের স্কুলে বদলির আর্জি মঞ্জুর
বর্তমান | ১৬ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অটিজমে আক্রান্ত সন্তানের চিকিৎসা ও দেখাশোনার জন্য বাড়ির কাছাকাছি স্কুলে দুই শিক্ষিকার বদলির আবেদন মঞ্জুর করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে (এএসডি) আক্রান্ত সন্তানের পরিচর্যার জন্য বাড়ির কাছাকাছি স্কুলে বদলির আবেদন জানিয়েছিলেন দুই শিক্ষিকা। কিন্তু সেই আবেদন বাতিল হয়। এরপর ইন্দ্রাণী বসু ও তনুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই দুই শিক্ষিকা আদালতের দ্বারস্থ হন। ইন্দ্রাণী ২০০৭ সালে উত্তর ২৪ পরগনার একটি হাইস্কুলে বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। অন্য আবেদনকারী ২০১৩ সালে পুরুলিয়ার একটি গার্লস হাইস্কুলে ইংরেজির সহকারী শিক্ষিকা হিসাবে নিযুক্ত হন। দু’জনের সন্তানই অটিজমে আক্রান্ত।
তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের ‘জেনারেল ট্রান্সফার অন স্পেশাল গ্রাউন্ডস অ্যান্ড রিলোকেশন রুলস, ২০১৫’ অনুযায়ী কোনো বিশেষ কারণে যেমন, গুরুতর অসুস্থতা, প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক সমস্যা, স্বামী-স্ত্রীর একই কর্মস্থল ইত্যাদি ক্ষেত্রে বদলির আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীদের আদালতে দাবি করেন, বর্তমান নিয়মে ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ভিত্তিতে বদলির সুযোগ থাকলেও অটিজমের মতো মানসিক ও স্নায়বিক বিকারজনিত প্রতিবন্ধকতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এটি শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে অযৌক্তিক বৈষম্য তৈরি করেছে, যা সংবিধানের সমতার অধিকার এবং জীবন ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারের পরিপন্থী। মূলত এই যুক্তিতেই মান্যতা দিয়ে ওই দুই শিক্ষিকার বদলির আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।