• বাদুড়িয়ায় প্রাচীন রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল
    বর্তমান | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা বসিরহাট: বহু বছরের ঐতিহ্য বহন করছে বাদুড়িয়ার রথযাত্রা উৎসব। কথিত, পরম বৈষ্ণব মহারাজ প্রথম কৃষ্ণচন্দ্র পাঁচ ব্রাহ্মণকে বাদুড়িয়ার মাঝেরপাড়ায় জমি দান করে বৃন্দাবন জীউয়ের বিগ্রহ তুলে দেন। সেখানে বৃন্দাবনচন্দ্র মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। ১৫০ বছর আগে বাদুড়িয়া নিবাসী বৈষ্ণব রামরূপ ভট্টাচার্যকে স্বপ্নাদেশে ঠাকুর বলেছিলেন তাঁকে রথে তুলে যাত্রা করতে। যাঁরা এই সময় তাঁর দিকে তাকাবেন তাঁরা আশীর্বাদ পাবেন। এভাবেই শুরু বাদুড়িয়ার বৃন্দাবন রথযাত্রার। বর্তমানে দায়িত্বে আছেন রামরূপ ভট্টাচার্যের নাতি দীপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে আমাদের কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছে। রথের প্রধান আকর্ষণ জগন্নাথের নয় বৃন্দাবনচন্দ্রের  ন’চূড়া বিশিষ্ট ৩০ ফুট লম্বা রথ। সেটি মাঝেরপাড়ার আম গাছের তলায় গোল পাতার ছাউনির নীচে থাকত। নিত্যসেবা পেত। তবে বৃষ্টিতে ভিজে রথ নষ্ট হয়ে যায়। ২০০৭ সালে বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী, দীপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ও বাদুড়িয়ার মানুষ ও প্রশাসনিক সহায়তায় তিনলক্ষ টাকা খরচ করে রথের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে পাঁচ চুড়া ১৬ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া রথ। এই ঐতিহ্যবাহী রথ প্রতিবছর বাদুড়িয়া পুরসভা থেকে আনারপুর হয়ে রথতলায় আসে। উল্টোরথের দিন বৃন্দাবনচন্দ্র  মন্দিরে পৌঁছয়। এই উৎসবে হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হয়। দীপেন্দ্রনাথবাবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মঠ ও মন্দিরের জন্য তিনি যে আর্থিক বরাদ্দ করেছে তার জন্য। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সনাতনী মন্দিরগুলির অধিকাংশ ভগ্নদশা প্রাপ্ত। সেগুলি সংরক্ষণের জন্যেও এই অর্থ ব্যয় হবে।’ তাছাড়া রাজ্য সরকারের তরফে যে ৬০ রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে তার জন্যও তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন। প্রান্তিক এলাকায় রথ বিশেষ করে বৃন্দাবন চন্দ্র রথ খুব একটা দেখা যায় না। আগামী দিন এইসব কমিটিও যদি আর্থিক সাহায্য পায় তাহলে এই রথগুলির চেহারা উজ্জ্বল হবে। বাদুড়িয়া মহেশপুর সর্বপল্লি হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী অনিমেষ মণ্ডল বলেন, ‘ছোটো থেকেই বাবার হাত ধরে বাদুড়িয়ায় রথযাত্রায় আসতাম। অংশগ্রহণ করতাম। সেই ঐতিহ্য আজও রয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন দাস বলেন, ‘বাদুড়িয়া রথতলা রথযাত্রা ঐতিহ্য ভরা এবং মানুষের আবেগ রয়েছে। রথ যত প্রাচীন হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা ও ভক্তি তত বাড়ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)