• সকাল সকাল জগন্নাথ দর্শনে মন্ত্রী অর্জুন সিং, অনুদান পেয়ে রথযাত্রার আয়োজন কেমন হল দেখুন
    News18 বাংলা | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ঐতিহ্যের টানে আতপুরের রথে জনজোয়ার, রশিতে টান দিলেন পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং। রথযাত্রা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী আতপুর রথবাড়িতে ভক্তদের ঢল নামে সকাল থেকেই। প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মাসির বাড়ি যাওয়ার বিশেষ দিনে শতাব্দীপ্রাচীন রথের রশিতে টান দিয়ে উৎসবের সূচনা করলেন রাজ্যের পরিবহন ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার এবং ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিং।

    তাঁদের উপস্থিতিতে রথযাত্রা ঘিরে উৎসবের আবহ আরও জমে ওঠে। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই রথযাত্রাকে ঘিরে সকাল থেকেই আতপুর রথবাড়ি প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পুজো, কীর্তন এবং রীতি মেনে বিশেষ পূজার পর শুরু হয় রথ টানা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বহু মানুষ এই শুভক্ষণে রথের রশিতে হাত রেখে প্রার্থনা জানান। এ বছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শতবর্ষের বেশি প্রাচীন ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

    সেই তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী আতপুর রথবাড়িও। সরকারি অনুদানে এ বছরের আয়োজন আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। রথযাত্রায় অংশ নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, আতপুরের এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা দীর্ঘদিন ধরে নিজের গরিমা বজায় রেখেছে। রাজ্য সরকার শতবর্ষের বেশি প্রাচীন রথগুলিকে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা এই ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমারের জানান, সরকারি সহায়তায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রথযাত্রার আয়োজন আরও সুন্দরভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।

    আতপুরের এই প্রাচীন রথযাত্রা এলাকার মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রসঙ্গত, আতপুরে রথবাড়ির ইতিহাস বহু পুরনো। ১৭৯৮ সালে ঘোষ পরিবারের কাশীনাথ ঘোষ নিজের বাড়ির নিমগাছ কেটে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ তৈরি করান। সেই বছরই তৈরি হয় কাঠের রথ। ছোট্ট পারিবারিক উৎসব ধীরে ধীরে এলাকার সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। পরে কাশীনাথ ঘোষের ছেলে হরচন্দ্র ঘোষ নতুন মন্দির, নাটমন্দির আর রথবাড়ি গড়ে তোলেন। ১৮৫৩ সাল থেকে নতুন করে শুরু হয় রথের যাত্রা। প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মীয় ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই রথযাত্রা উৎসব।
  • Link to this news (News18 বাংলা)