বর্ধমান মহারাজা প্রতিষ্ঠিত ২৩৮ বছরের প্রাচীন এই রথ। এই রথে জগন্নাথ, বলরাম, শুভদ্রা থাকেন না, অধিষ্ঠিত থাকেন লালজি মহারাজ। বর্ধমান মহারাজা নিয়ম অনুসারে আগে কাঠের রথে করে লালজি মহারাজকে ১০৮ শিব মন্দির চত্বর থেকে শুরু করে কালনা চকবাজার হয়ে সুরসাথী মোর হয়ে আবার একশ আটটা শিব মন্দির প্রাঙ্গনে নিয়ে আসা হত। বর্তমানে কাঠের রথ ভেঙে যাওয়ায় লোহার রথে করে লালজী মহারাজকে প্রথমে পালকিতে চাপিয়ে তারপরে রথে চাপানো হয়।
কালনার এই রথযাত্রা উপলক্ষে বহু মানুষ হাজির হন ১০৮ শিব মন্দির চত্বরে। শ’য়ে শ’য়ে পুণ্যার্থীরা এই মন্দির চত্বরে আসেন৷ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে ড্রোন মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
মেলা কমিটি থেকে জানানো হয়েছে, এ বছরের রথের ঐতিহ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ কারণ, পূর্ব বর্ধমান জেলাতে একমাত্র কালনা টাউন রথ কমিটি প্রাচীন রথ কমিটি হিসেবে সরকারি পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছে। তাই এ বছরের ঐতিহ্য একটু আরম্বরতার সঙ্গেই পালন হবে রথ কমিটির দাবি।
লালজি মহারাজের পুজো শুরু হয়ে গেছে পুজো শেষ হওয়ার পর পালকিতে করে মহারাজকে নিয়ে যাওয়া হবে ফটকদারের, সুর ও সাথী মোড়ে। সেখান থেকে হাজার হাজার পুন্যার্থী রথের রশি টেনে লালজি মহারাজকে নিয়ে আসবে একশো আট শিব মন্দির চত্বরে। এখানে উপস্থিত থাকবেন বর্ধমান জেলার শাসক, কালনার বিধায়ক থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা।
পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা শহরের রাজবাড়ি চত্বরে অবস্থিত লালজি মন্দির বাংলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ টেরাকোটা মন্দির। বর্ধমান রাজাদের নির্মিত মন্দিরগুলির মধ্যে এটি অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। লালজি মন্দির নির্মাণ করেন বর্ধমান রাজপরিবারের সদস্য রাজা কীর্তিচাঁদ রায়ের মা ব্রজকিশোরী দেবী। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১৬৬১ শকাব্দ)। এটি একটি পঁচিশ রত্ন (২৫ চূড়া বিশিষ্ট) মন্দির। মন্দিরের প্রধান আরাধ্য দেবতা হলেন শ্রীশ্রী রাধা-কৃষ্ণ (লালজি)। বৈষ্ণব ভাবধারার উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই মন্দিরে রাধাকৃষ্ণের উপাসনা করা হয়। এই ধরনের পঁচিশ রত্ন মন্দির বাংলায় খুব বেশি নেই। কালনার লালজি মন্দির, কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির এবং গোপালজি মন্দির—এই অঞ্চলের রত্ন স্থাপত্যের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।