সিবিএসই-র (CBSE) নবম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফের কড়া পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানিতে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে, নবম শ্রেণিতে নতুন করে তৃতীয় ভাষা চালু করা উচিত নয়। আদালতের মতে, বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত ভাষার চাপ তৈরি করা সমীচীন হবে না। বোর্ড পরীক্ষার কারণে এমনিই চাপে থাকেন নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা, সেখানে আরও একটি ভাষা জুড়লে তা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে মত।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি আর মহাদেবন-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, যদি তৃতীয় ভাষা চালু করতেই হয়, তবে তা পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু করা বেশি যুক্তিযুক্ত। ছোটবেলায় নতুন ভাষা শেখা তুলনামূলকভাবে সহজ, কিন্তু নবম শ্রেণিতে এসে অতিরিক্ত ভাষার বোঝা শিক্ষার্থীদের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আদালতের অভিমত।
শুনানিতে বিচারপতিরা বলেন, নবম শ্রেণি থেকেই ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে। এই সময়ে নতুন একটি ভাষা বাধ্যতামূলক করলে তাদের পড়াশোনার চাপ আরও বেড়ে যাবে। বিচারপতি নাগারত্না মন্তব্য করেন যে, ‘বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির কারণে ছাত্রছাত্রীরা আগে থেকেই পড়াশোনার সাংঘাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। বাড়তি চাপ অপ্রয়োজনীয়। অষ্টম শ্রেণির শেষ থেকে চাপ শুরু হয়ে যায়। সেখানে নবম শ্রেণিতে কেন নতুন ভাষা আনছেন? এটা তো ষষ্ঠ শ্রেণিতেই আনা যায়। যত আগে করা যায়, ততই ভালো।’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভাষা শিক্ষার উদ্দেশ্য প্রশংসনীয় হলেও তার বাস্তবায়নের সময় ও পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রসঙ্গে শুনানির সময়ে বিচারপতি নাগারথনা নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের সময়ে ছাত্রছাত্রীদের বোর্ড পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে অষ্টম শ্রেণি থেকেই দশম শ্রেণির বিষয়বস্তুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। সুতরাং, আমাদের যদি সেই ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা থেকে থাকে, তাহলে আজকের ছাত্রছাত্রীদের কী হবে? নবম শ্রেণিতে নতুন ভাষা শুরু করবেন না। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু করুন... আমি ১৯৭৬ সালে আমার কথা মনে করে বলছি।’
জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে CBSE নবম শ্রেণিতে তিন-ভাষা নীতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে, যার মধ্যে অন্তত দু’টি ভারতীয় ভাষা হওয়া বাধ্যতামূলক। বর্তমানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষার মূল্যায়ন স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মাধ্যমে হলেও, এই নীতি নিয়েই আদালতে একাধিক আবেদন দায়ের হয়েছে।
এই মামলায় আগেই সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র, CBSE এবং NCERT-র কাছে জবাব তলব করেছিল। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং ভাষা নীতি কার্যকর করার আগে তার বাস্তব প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। মামলার পরবর্তী শুনানিতে নিজেদের বিস্তারিত অবস্থান জানাবে কেন্দ্র।