Big Breaking: রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন কোয়েল। এর আগে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়া তিন প্রতিনিধি সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক পদত্যাগ করেন। এ বার পদ ছাড়লেন কোয়েল। কোয়েলের পদত্যাগে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৯। এ দিকে সূত্রের খবর, এই পদত্যাগের পরেই বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কোয়েল। এই খবর সামনে আসার পরেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এ বার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কোয়েলও?
গত জুন মাসে সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা, প্রকাশের পদত্যাগের পর পরেই কোয়েলের পদত্যাগের খবর নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। সূত্রের খবর, সে সময়ে ইমেল মারফত ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন কোয়েল। তবে উপরাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয়েছিল, সশরীরে উপস্থিত হতে হবে ইস্তফা প্রক্রিয়ার জন্য। যে হেতু কোয়েল বিদেশে ছিলেন, সেই কারণেই প্রক্রিয়ায় কিছু বিলম্ব হয় বলে জানা যাচ্ছে।
গত ৬ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। তিন মাসেই পদত্যাগ! যদিও ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের রাজনৈতিক বৃত্তের ছবিটাই রাতারাতি বদলাতে শুরু করে। লোকসভার সিংহভাগ সাংসদই তৃণমূল ছেড়েছেন। NCPI দলে নাম লিখিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠানরা।
বিধায়ক শিবির আবার তৃণমূলের নাম, প্রতীক ছাড়েনি। তবে আসল তৃণমূল বলে নিজেদের দাবি করে নতুন লবি তৈরি হয়েছে। সিংহভাগ নেতা সেখানে। চমকে দিয়ে ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অরূপ বিশ্বাস, অনুব্রত মণ্ডল, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরাও ঢুকে পড়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সন্দীপন সাহাদের শিবিরে। এখন একদিকে ‘আসল তৃণমূল’, অন্যদিকে কালীঘাট-তৃণমূল।
এরই মধ্যে কোয়েলের ইস্তফার পরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে রাজ্যসভায় এর পরেও ধাক্কা খাওয়া বাকি আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একাধিক সাংসদের পদত্যাগের সম্ভাবনার গুঞ্জন জোরাল হচ্ছে রাজধানীতে।
এখন রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে রইলেন বাবুল সুপ্রিয়, মেনকা গুরুস্বামী, রাজীব কুমার, নাদিমুল হক, মমতাবালা ঠাকুর, সাগরিকা ঘোষ, ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম।