পড়ুয়ার ছদ্মবেশে মাঝরাতে হাসপাতালে হাজির রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। বুধবার রাতে কল্যাণীর JNM হাসপাতালে ঢুঁ মন্ত্রী সুমনা সরকারের। সেখানে গিয়ে স্বাস্থ্যের যে অস্বাস্থ্যকর ছবি দেখলেন, তাতে অত্যন্ত বিরক্ত তিনি। এ দিন রাতে ডাক্তারি পড়ুয়া সেজে হাসপাতালে সারপ্রাইজ় ভিজিট করেন সুমনা সরকার। সেখানে গিয়ে দেখেন, কোনও সিনিয়র ডাক্তার নেই। ইমার্জেন্সিতে পর্যন্ত কোনও সিনিয়র ডাক্তারের দেখা মেলেনি। গত কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে রাজ্যে, তা শিকড় থেকে উপড়ে ফেলা হবে, এ দিন কল্যাণীর এই ৫০০ বেডের হাসপাতালে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন সুমনা।
একেবারে সাধারণ পোশাকে, কোনও নিরাপত্তা রক্ষী ছাড়াই বুধবার রাতে JNM হাসপাতালে যান সুমনা সরকার। সঙ্গে ছিলেন মহিলা পুলিশ। তবে তিনিও সিভিল ড্রেসে। হাসপাতাল বিল্ডিং ঘোরার পাশাপাশি হস্টেলও ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। সেখানকার ছবি আরও ভয়ঙ্কর!
মন্ত্রী যখন ভিতরে ঢোকেন, এমন ছবিই দেখেছেন যাতে তিনি স্তম্ভিত। জানান, হস্টেলের অবস্থা নিয়ে মিডিয়ার সামনে কিছু বলবেন না। তবে জায়গা মতো রিপোর্ট দেবেন। শুধু শুনিয়ে রাখেন, ‘এত বড় হস্টেল, অথচ নিরাপত্তারক্ষী নেই! সব ওপেন টু অল। আমি সবটাই দেখে গেলাম।’
কল্যাণীর কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম হসপিটাল। লোকের মুখে মুখে এই হাসপাতালের পরিচিতি ‘৫০০ বেড’ নামে। কল্যাণী, হরিণঘাটা, রানাঘাট থেকে পর্যন্ত রোগী আসে এখানে। ও দিকে নৈহাটি। বহু প্রাচীন এই হাসপাতাল। পুরোনো বিল্ডিং, বড় বড় সব ঘর, বিশাল জায়গা নিয়ে তৈরি। সারাদিন, সারারাত রোগীর ভিড়।
গত কয়েক বছরে এই হাসপাতাল নিয়ে গুচ্ছের অভিযোগ উঠেছে। পরিকাঠামো থেকে দালালরাজ, নিরাপত্তা থেকে রোগীদের দেখভাল নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে ব্যবস্থা কিছুই হয়নি।
এ দিন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, ‘প্রচুর অভিযোগ আসছে, তাই আমি এসেছিলাম। বলা হচ্ছিল, রাত ১০টার পরে কোনও সিনিয়র ডাক্তার থাকেন না। এসে দেখলাম ইমার্জেন্সিতে কোনও সিনিয়র ডাক্তার নেই। শুধু জুনিয়রদের উপরে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলেন! বিড়াল, কুকুর ঘুরছে। প্রত্যেকটা জায়গা নোংরা করে রেখেছে। একটা ডিপার্টমেন্ট নেই, যেখানে নোংরা নেই। এখানকার বিধায়ক অনুপম বিশ্বাস বার বার বলেছেন, JNM হাসপাতালের অবস্থাটা দেখুন। এসে দেখলাম, কী পরিস্থিতি!’
রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির উপরে নজরদারি বাড়াতে সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবন থেকে মনিটরিংয়ের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ দিন মন্ত্রী বলেন, ‘কলকাতায় সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। মনিটরিং হচ্ছে স্বাস্থ্যভবন থেকে। সব জায়গায় হবে মনিটরিং। কিচেন অবধি নিয়ে যাব এই নজরদারি। জেলা থেকে ব্লক স্তরেও এই নজরদারি চালানো হবে।’