• ‘জনতার দরবারে’ অর্ধেন্দু, অমৃতাকে খুঁজে দেওয়ার কাতর আর্জি শুনে কী বললেন মন্ত্রী?
    এই সময় | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে এ বার জনতার দরবারেও পৌঁছে গেলেন অর্ধেন্দু সিনহা। গলায় মেয়ে অমৃতা সিনহার নাম-ছবি দেওয়া সেই প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে বৃদ্ধ যান সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দরবারে।

    অর্ধেন্দুর সঙ্গে কথা বলার পরে জগন্নাথ বলেন, ‘আমাদের সম্যক ধারণা রয়েছে গোটা বিষয়টি সম্পর্কে। এই নিয়ে তৃতীয় বার উনি আমার সঙ্গে দেখা করলেন। আমিও জেলা পুলিশ সুপার এবং সিআইডি-র মিসিং স্কোয়াডের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি। সিআইডি খুঁজছে। কিন্তু সমস্যা একটাই, কোনও মিসিং লিঙ্ক নেই। যেমন কোনও মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড বা পরিচয়পত্র ওঁর (অমৃতার) সঙ্গে ছিল না বলে দাবি করেছেন ওঁর বাবা।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমি আশাবাদী, সময় একটু বেশি লাগলেও ওঁর (অর্ধেন্দু) মেয়ে কোথায় রয়েছেন, কী ভাবে রয়েছেন, তার খোঁজ পাওয়া যাবে।’

    মন্ত্রী-সাক্ষাতের পরে অর্ধেন্দুও বলেন, ‘এত কিছুর পরেও মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছি না। কী করব বুঝতেও পারছি না। তাই সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দরবারে এসেছি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন। একটু ধৈর্য রাখতে বলেছেন। এ-ও বলেছেন, সময় লাগলেও পুলিশ আমার মেয়েকে খুঁজে বার করবে।’

    প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ বছর চব্বিশের তরুণী অমৃতা। পরিবার জানিয়েছে, সে দিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তিনি। বাবা অর্ধেন্দু সিউড়ি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। নেতাদের দরজাতেও কড়া নেড়েছেন। কিন্তু এখনও সুরাহা হয়নি। শেষে মেয়ের খোঁজে নিজেই রাস্তায় নেমেছেন বৃদ্ধ। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে কার্যত গোটা বীরভূমই চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। আবার মেয়ের খোঁজে কখনও কলকাতায় আসছেন, কখনও আবার অজ্ঞাতপরিচয়ের ফোন পেয়ে ছুটে যাচ্ছেন আসানসোলে। জেলা পুলিশেরও একটি বিশেষ টিম অমৃতার খোঁজ করছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সাহায্য নেওয়া হচ্ছে সিআইডি-রও।

    সিউড়ি থানা সূত্রে খবর, নিখোঁজ তরুণীর সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। তারা সেই তথ্য (তরুণীর ছবি, শারীরিক বর্ণনা, জন্মদাগ, নথিপত্রের ছবি) নিজেদের বুলেটিন ‘ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স গেজেট’ (সিআইজি)-এ আপলোড করেছে। তার ফলে সেই তথ্য পৌঁছে গিয়েছে অন্য রাজ্যের গোয়েন্দাদের কাছেও। পুলিশ মহল জানাচ্ছে, সিআইজি হলো দেশের পুলিশি ব্যবস্থায় তথ্য আদানপ্রদানের একটি মাধ্যম। একে এক রকমের তথ্যভাণ্ডারও বলা যেতে পারে। সাধারণত নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ পেতে, অজ্ঞাতপরিচয় দেহ শনাক্তকরণে, কিংবা অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে সিআইজি-র তথ্যভাণ্ডার কাজে লাগানো হয়। কিন্তু তার পরে মাসখানেক কেটে গেলেও এখনও অমৃৃতার খোঁজ মেলেনি।

  • Link to this news (এই সময়)